বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মৌলিক শর্ত ভোটের আগে ও পরে ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা বিধান। আমরা যথাযথভাবে তা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর দায় এড়াতে পারবে বলে মনে হয় না।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও সংঘর্ষ যেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এখন ভোটযুদ্ধে যুদ্ধ আছে, ভোট নেই। ইউপি নির্বাচনে এখন উৎসবের বাদ্যের বদলে বিষাদের করুণ সুর বাজছে। কিন্তু নির্বাচন ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না।

বিভিন্ন ইউপিতে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে ব্যালট পেপারের সুরক্ষা দিয়ে এ অবস্থার অবসান ঘটানো প্রয়োজন। স্মরণযোগ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারের ঘটনাটি বিবিসি প্রকাশ করার পর নির্বাচন কমিশন দিনের ভোট রাতে করে বলে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হই। এটি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।’

default-image

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচনী সন্ত্রাস প্রতিহত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের প্রতিঘাত আরও জোরদার করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সন্ত্রাসের কারণ অনুসন্ধান করে তা থেকে অব্যাহতির উপায় উদ্ভাবন অপরিহার্য। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রথা উঠিয়ে না দিলে সন্ত্রাস ও সংঘর্ষ উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘মানবাধিকারের আলোচনা এখন তুঙ্গে। মানবাধিকার উৎসারিত হয় ভোটের অধিকার থেকে। আমাদের সংবিধানের স্পিরিটই হচ্ছে তা–ই। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ও রক্ষা করা এখনো সুদূরপরাহত। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একমাত্র নির্ভেজাল গণতন্ত্রই মানবাধিকারের গ্যারান্টি দিতে পারে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, আইনানুগ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন সুষ্ঠু নির্বাচনের গোড়াকর্তনের নামান্তর। কিছু সাংসদ সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলমান ইউপি নির্বাচনকে কলুষিত করেছেন। কেবল চিঠি দেওয়া ছাড়া তাঁদের সম্পর্কে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কেউ কেউ সেই চিঠি উপেক্ষা করেছেন। এ জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ অনিবার্য ছিল। কিন্তু নির্বাচনপ্রক্রিয়া সংস্কার না করা হলে তাঁদের সম্পর্কে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়। অন্যান্য যাঁরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, তাঁদের সামান্য অর্থদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া আইনের কঠোর বাস্তবায়ন অসম্ভব।

পত্রিকার সংবাদ উদ্ধৃত করে মাহবুব তালুকদার বলেন, দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় যেমন টাঙ্গাইল (ডুবাইল), কুড়িগ্রাম (যাত্রাপুর), নেত্রকোনা (দুর্গাপুর), ফেনী (ছাগলনাইয়া), কুমিল্লার আদর্শ সদর (পাস্তুরি), সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর (জালালপুর), কিশোরগঞ্জ (ভৈরব), রাজশাহী (চারঘাট), হবিগঞ্জ (সদর), ঠাকুরগাঁও সদর (আখানগর), গোপালগঞ্জ (কোটালীপাড়া), গাইবান্ধা (জুমারবাড়ি), যশোর (কেশবপুর), সাভার (আশুলিয়া) ইত্যাদি স্থানে নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়ে গেছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন