সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের হেমাটোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের সমন্বয়ক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন একটি ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসাপদ্ধতি, যেখানে চিকিৎসকদের অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমরা তা করতে পেরেছি। কারণ, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যদের নিয়ে গঠিত পরিপূর্ণ একটি দল এই কাজে যুক্ত।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে এভারকেয়ার হাসপাতালে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন শুরু হয়। এরপর থেকে এই চিকিৎসা অব্যাহত ছিল। চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, করোনাকালে যুক্তরাজ্যে বা ভারতের বড় বড় হাসপাতালে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বন্ধ ছিল। কিন্তু এভারকেয়ার হাসপাতালে তা বন্ধ রাখা হয়নি। এই হাসপাতালে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বিভাগে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা করোনাভাইরাস প্রতিরোধব্যবস্থার চেয়েও দৃঢ়।

চিকিৎসকেরা জানান, অটোলোগাস ও অ্যালোজেনিক—এই দুই পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়। বৈশ্বিক গড় সফলতার হার ৫০ শতাংশ। তবে এই হাসপাতালে অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে সফলতার হার ৭৮ শতাংশ। আর অটোলোগাস পদ্ধতিতে সফলতার হার ৬৬ শতাংশ। এই হাসপাতালে অটোলোগাস পদ্ধতির খরচ সাত থেকে আট লাখ টাকা, অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে খরচ গড়ে ১৫ লাখ টাকা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশে গড়ে দৈনিক সাড়ে চার শ ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়। বছরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন। কিন্তু দেশে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করার মতো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র পাঁচটি। তবে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত প্রতিস্থাপন হয় না। দেশের আর কোনো হাসপাতালে এভারকেয়ারের মতো এতসংখ্যক রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকজন রোগী ও রোগীর আত্মীয় উপস্থিত ছিলেন। কলেজপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মা নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সময় বলেন, দেশের দুটি হাসপাতাল ও একাধিক চিকিৎসক তাঁর ছেলের রোগ ধরতে পারেননি। ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠানে তাঁর ছেলের সঠিক চিকিৎসা হয়নি। তিনি ছেলেকে নিয়ে ভারতে প্রায় তিন বছর ছিলেন। তবে সঠিক চিকিৎসা পেয়েছেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। এই মা বলেন, দেশে এই চিকিৎসা আছে, এ খবরটি সবার জানা দরকার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রত্নদীপ চাস্কার ও চিকিৎসাসেবা বিভাগের উপপরিচালক আরিফ মাহমুদ।