default-image

মোহাম্মদপুরের আদাবর থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী মাজেদুল হক। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে এই সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছেন, গাছে গাছে অনেক কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটেছে। তিনি ঠিক করেছিলেন, পরিবার নিয়ে এখানে ঈদের সময় ঘুরতে আসবেন। সেই পরিকল্পনা থেকেই এখানে এসেছেন। মাজেদুল বলেন, এই শহরে এত কৃষ্ণচূড়া গাছ আর কোথাও নেই। বসার জায়গা আছে, আবার গাড়িও পার্ক করা যায়। সব মিলিয়ে এখানে ঘুরতে আসার বিষয়টা দারুণ।

জিগাতলা থেকে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম ভিড় আছে, তাই পার্ক বা খাবার দোকানে নয়, একটুখানি কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখব। বসে বসে বাতাস খাব বলে এই সড়কে এসেছি। এখন দেখি শত শত মানুষ এখানে। তবুও মনটা হালকা হলো এত ফুল দেখে। কিছুক্ষণ বসে থাকা গেছে। এখন ভিড়ের জন্য চলে যাচ্ছি। তবে দুই দিন পর আবার আসব যদি ভিড় কমে!’

এখানে আসা বেশির ভাগই মানুষরেই কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখা আর ফাঁকা সড়কে বসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এত মানুষ এখানে আসবে, এটা তাঁদের কল্পনার বাইরে ছিল।
এমনই একজন আলতাফ হোসেন। তিনি মিরপুর এক নম্বর থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘সবখানেই তো মানুষের জটলা। এখানে কম হবে বলে এসেছি। দুপুরে এসে দেখি মানুষ নেই তেমন। কিন্তু বিকেল গড়াতেই এত মানুষ আসছে, যা কল্পনার বাইরে।’

default-image

এই সড়কে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য জানান, এত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজি এখানে আসছে যে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে ঈদের ছুটি কাটাতে আসা মানুষদের কথা চিন্তা করে হাসিমুখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এই সড়কে ঘুরে দেখা গেল, মানুষ মূলত দল বেঁধে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছেন। মোটরসাইকেল বা গাড়ির সামনেও ছবি তুলতে দেখা গেল কিছু কিছু তরুণকে।

দ্বিজেন শর্মার লেখায় পাওয়া যায়, আফ্রিকার মাদাগাস্কার থেকে উনিশ শতকের প্রথম দিকে এই গাছ প্রথমে ইউরোপ, তারপর উপমহাদেশে আসে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের দেওয়া কৃষ্ণচূড়ার নাম ডেলোনিখ রেজিয়া (Delonix regia)। কিন্তু বাংলায় এসে বদলে গেছে নামও। কৃষ্ণচূড়ার ‘কৃষ্ণচূড়া’ হয়ে ওঠার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় আমিরুল আলম খানের ‘পারুলের সন্ধানে’ বইয়ে। তিনি বলেন, ১৭ শতকের এক রাজকবি দেবতা কৃষ্ণের মাথার চূড়ার বর্ণনায় রক্তবর্ণ ফুলের সঙ্গে একে তুলনা করেছেন। আমিরুল আলমের মতে, কোনো কাব্যরসিক হয়তো সেই বর্ণনা থেকে কৃষ্ণচূড়া নাম রেখে থাকবেন।

এখন ঢাকার কিছু জায়গায় গিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে ডানে-বাঁয়ে তাকালে কৃষ্ণচূড়া নজরে পড়বে। তবে বিমানবন্দর সড়ক, হাতিরঝিল, চন্দ্রিমা উদ্যান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এর সংখ্যা বেশি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন