মন্ত্রণালয় প্রতিদিন রাজধানীর ১০টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রি করবে। তবে আজ সোমবার গাড়ি নষ্ট হওয়ায় জাপান সিটি গার্ডেন ও যাত্রাবাড়ী ছাড়া সচিবালয়সংলগ্ন আবদুল গণি রোড, খামারবাড়ি গোলচত্বর, মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার ও মিরপুরের কালশী—এই ৮ স্থানে পণ্য বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ড্রেসড ব্রয়লার ২০০ টাকা, প্রতি লিটার দুধ ৬০ টাকা ও ১ হালি ডিম ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

খামারবাড়িতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পণ্য বিক্রি শুরু হয়। বেলা পৌনে ১টার দিকে যখন বিক্রি শেষ, তখন অন্তত ১৫ জন খালি হাতে ফিরেছেন। নিয়ম অনুযায়ী লাইনে দাঁড়ানো প্রত্যেক ব্যক্তি সর্বোচ্চ এক কেজি গরু বা খাসির মাংস, এক কেজি মুরগির মাংস, ডিম এক ডজন, দুই লিটার দুধ কিনতে পারবেন।

default-image

আজিমপুরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক জাফর আহমেদ বেলা ১১টায় এসেও গরুর মাংস কিনতে পারেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের চাহিদার তুলনায় পণ্য খুব কম। তাঁর মতে, ঢাকা শহরে ২ কোটি মানুষের জন্য সুলভ মূল্যের মাত্র ৮–১০টি গাড়ি খুবই অপ্রতুল।

সুলভ মূল্যের ভ্রাম্যমাণ গাড়ির সুপারভাইজার (তত্ত্বাবধায়ক) সারওয়ান হোসেন জানান, খামারবাড়িতে গরুর মাংস ১০০ কেজি, খাসির মাংস ১০ কেজি, মুরগির মাংস ৫০ কেজি, ডিম ১২০০ পিস, দুধ ২০০ লিটার আনা হয়েছিল। এ ছাড়া জাপান সিটি গার্ডেনের গাড়িটি নষ্ট হওয়ায় অতিরিক্ত আরও কিছু দুধ ও মুরগির মাংস এই গাড়িতে ছিল।

খামারবাড়ির অন্তত ১২ জন ক্রেতার সঙ্গে বলে জানা গেছে, তাঁরা পণ্য বিক্রির ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাঁদের অভিযোগ, কারও কারও কাছে নিয়মবহির্ভূতভাবে দু–তিন কেজি করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আউটসোর্সিংয়ে কাজ করেন শেখ ইমরান। বেতন ১০ হাজার টাকা। করোনা শুরু হলে খরচ চালাতে না পেরে স্ত্রী শারমিনকে গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ইমরান এখন মেসে থাকেন। ইমরান বলেন, ‘অনেক দিন ধরে মাংস খাই না। কম মূল্যে মাংস পেলে রমজান মাসে ভালো হবে। এ জন্য এসেছি কিন্তু পেলাম না।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন