গতকাল ফিরে গেছেন, আজ গিয়েই টিকা পেলেন
করোনার টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচির প্রথম দিন গতকাল শনিবার টিকা নিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন রিকশাচালক জুয়েল মিয়া। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। বেলা আড়াইটার দিকে কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ সব টিকা শেষ হয়ে যায় পরে আবার টিকা আনা হয়। কিন্তু এই টিকা কেন্দ্রে পৌঁছায় বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর। ততক্ষণে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর কাজে ফিরে যান জুয়েল।
গতকাল ঢাকা উত্তর সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের (মোহাম্মদপুরে টাউন হল) অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে না পেরে ফিরে গিয়েছিলেন জুয়েল। আজ রোববার আবার সেখানে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান তিনি। তবে আজ তাঁকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। লাইনে দাঁড়ানোর আধঘণ্টার মধ্যেই টিকা পান তিনি।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জুয়েলের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, ‘রিকশা চালানো বাদ দিয়া গতকাল টিকার লাইনে দাঁড়াইয়া ছিলাম কিন্তু টিকা শেষ হইয়া গেছিল। টিকা আসতেছে শুইনা লাইনে দাঁড়াইয়া ছিলাম। বিকাল পাঁচটার সময়ও টিকা না আসায় ফিরা গেছি। আইজ টিকা পাইছি।’
জুয়েল জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ—দুটির কোনোটিই তাঁর না থাকায় এত দিন তিনি টিকা নিতে পারেননি। গতকাল টিকা নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে রিকশামালিকের জমার টাকাও আয় করতে পারেননি তিনি।
আজ টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে খুব বেশি ভিড় দেখা যায়নি। লোকজনের উপস্থিতি কম থাকায় টিকা নিতে আসা লোকজনকে বেশিক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি। লোকজন কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন, কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পরই টিকা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন।
সকাল ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি। নারী ও পুরুষের পৃথক দুটি সারি খুব বেশি লম্বা ছিল না। নারীদের সারিতে ৮ জন এবং পুরুষদের সারিতে সর্বোচ্চ ১৫ জনকে তখন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
নারীদের লাইনে টিকার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন মোহাম্মদপুরের শের-শাহ সূরি সড়কের বাসিন্দা সালমা পরিস্নেহা। তিনি একটি বেসরকারি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সালমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকালও টিকার জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি মানুষের প্রচণ্ড ভিড়, লাইন অনেক লম্বা। তাই বাসায় ফিরে যাই। আজকে এসে দেখলাম মানুষ কম তাই আজ টিকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি।’
সকাল সোয়া ১০টার দিকে টিকা নেওয়ার সুযোগ পান সালমা।
মোহাম্মদপুরের মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে সেখানকার কেন্দ্রেও মানুষের ভিড় খুব বেশি দেখা যায়নি। ভিড় কম থাকায় এই কেন্দ্রে নারী ও পুরুষের জন্য লাইন আলাদা করা হয়নি। এক লাইনেই টিকা দিতে দাঁড়িয়েছিলেন নারী-পুরুষেরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে প্রায় ৩০ জন টিকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
হাসপাতালটিতে দায়িত্ব পালনকারী আনসার কমান্ডার ও নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. ফয়জুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখনকার তুলনায় তখন ভিড় একটু বেশি ছিল। তবে গতকাল অনেক মানুষ টিকা নিতে এসেছিলেন। লাইনও হাসপাতালের গেট ছাড়িয়ে রাস্তা পর্যন্ত গিয়েছিল।
কেন্দ্রটিতে নিজের খালা মনোয়ারা বেগমকে কোলে করে টিকা দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন রিকশাচালক মো. জসিম ঢালী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকালই খালাকে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অনেক মানুষ থাকায় আর আনি নাই। আজকে রিকশা চালানোর ফাঁকে দেখলাম মানুষ কম। তাই দ্রুত বাসায় গিয়া রিকশায় খালাকে নিয়ে আসছি।’
অসুস্থতার কারণে মনোয়ারা হাঁটাচলা করতে পারেন না বলে জানান জসিম। তাঁরা থাকেন মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায়।
দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রে গিয়েও খুব বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ওই কেন্দ্রে লাইনও ছিল না। যেখানে টিকাদানকর্মীরা লোকজনের নিবন্ধন করার কাজ করছিলেন, তার সামনে শুধু কিছু মানুষের জটলা ছিল।
এই ওয়ার্ডের সচিব ইফতেখারুল মুজিব বেলা তিনটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সকালে ভিড় একটু ছিল, তবে এখন মানুষ কমে গেছে।