বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফজলে রাব্বি আরও বলেন, ‘আমরা সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি।’ সিআইডি ছাড়পত্র দেওয়ার দেড় মাসের মধ্যে সব গ্রাহকের পাওনা দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেন, তদন্তের নামে তিন মাস ধরে তাঁদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে রেখেছে সিআইডি। তদন্ত শেষ না হলে গ্রাহকদের টাকা ও পণ্য কোনটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পণ্য ডেলিভারি পাওয়ার আশায় পাবনা থেকে ঢাকায় আসেন আদনান সাইফ। ৩৫ শতাংশ ছাড়ে দুটি মোটরসাইকেলের ফরমাশ (অর্ডার) দিয়েছিলেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য না পেয়ে একাধিকবার ফোনে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান পাননি।

গত বৃহস্পতিবার বুমবুমের সিইও ফেসবুক লাইভে এসে গ্রাহকদের শুক্রবার মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি সবাইকে অর্ডারের ইনভয়েস সঙ্গে আনতে বলেন। বলেন, ‘আশা করি ভালো কিছু হবে।’

সিইওর অনুরোধে শুক্রবারের মতবিনিময় সভায় অংশ নেন আদনানও। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করেছিলাম, মোটরসাইকেল ডেলিভারি দেওয়া হবে। তাই পকেটের টাকা খরচ করে ঢাকার বাইরে থেকে এসেছি। এখন তারা সিআইডির ওপর দায় চাপিয়ে পণ্য দিতে পারবে না বলছে। আমরা টাকা খরচ করে এই কথা শুনতে আসিনি।’

অনুষ্ঠানে ঢাকার বাইরে থেকে আসা আরেক গ্রাহক সুমন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক আশ্বাস শুনেছি, আর না। কবে পণ্য বা টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি দুটি মোটরসাইকেলের ফরমাশ দিয়েছিলাম।’

শুধু আদনান কিংবা সুমন নয়, পণ্য পাওয়ার আশায় ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন অনেক গ্রাহক। মতবিনিময়কালে সিইওর কথা শুনে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। পণ্য ডেলিভারির নির্দিষ্ট সময় জানতে চান তাঁরা। তখন সিইও বলেন, ‘আপনারা মামলা করেন, আমার ওপর হামলা করেন। কিন্তু আমার হাত–পা বাঁধা। সিআইডি ছাড়পত্র না দিলে আমাদের কিছুই করার নেই।’ উল্টো তিনি গ্রাহকদের কাছে সমস্যা সমাধানের উপায় খোঁজেন। তখন গ্রাহকদের কেউ কেউ সিআইডি অফিসের সামনে মানববন্ধন করার পরামর্শ দেন। আবার কেউ কেউ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

গ্রাহকের এক প্রশ্নের জবাবে সিইও ফজলে রাব্বি ভূঁইয়া বলেন, এক কোটি টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে বুমবুম। বর্তমানে পেমেন্ট গেটওয়েতে প্রতিষ্ঠানটির এক কোটি টাকা আটকে আছে। তখন ওই গ্রাহক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ব্যাংক হিসাব খুলে লাভ কী? ব্যাংক হিসাবে আছে মাত্র এক কোটি টাকা। আপনাদের দেনা ১০ কোটি টাকা। বাকি টাকা কোথায় পাবেন?’ জবাবে সিইও বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগকারী প্রস্তুত আছে। সিআইডির ছাড়পত্র পেলেই গ্রাহকদের পণ্য বা টাকা ফেরত দিতে পারব।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন