default-image

কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত বাসের নতুন রুটে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, এই রুটে আগামী ১ এপ্রিল থেকেই বাস চলাচল শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন-বিষয়ক কমিটির ১৬তম সভা শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে মেয়র তাপস ভাড়া নির্ধারণের তথ্য সাংবাদিকদের জানান। ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মেয়র তাপস বলেন, রুটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ২০ পয়সা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ও অনুমোদন লাগবে। বিআরটিএর নির্ধারণ করা ভাড়ায় মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেবে বলে তিনি আশা করছেন।

বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা। আর বড় বাসে ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা হারে নির্ধারণ করা আছে।

ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে ১ এপ্রিল থেকে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালুর ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু ঠিক এদিন থেকেই বাস চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।

এ বিষয়ে মেয়র তাপস বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, ১ এপ্রিল থেকে বাস চলাচল শুরু করতে পারব। বাসগুলো মেরামত করতে হবে। প্রক্রিয়াগত কাজগুলো শেষ করতে পারব। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সহজ শর্তে ও সুদে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছি। এই টাকা বাসমালিকদের দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা তাঁদের কাজগুলো করতে পারেন। ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন।’

তবে মেয়র তাপস বলেন, বাস মেরামতে সময় লাগতে পারে। বিষয়টি বাসমালিকদের ওপর নির্ভর করছে। টাকা কত তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়, তার ওপরও নির্ভর করছে। প্রক্রিয়াগতভাবে তাঁরা আশাবাদী যে এপ্রিল নাগাদ এই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

সভা শেষে মেয়র তাপস সাংবাদিকদের জানান, এই রুটে যেসব জায়গায় বাস বে ও যাত্রীছাউনি হবে, সেই জায়গাগুলো নির্ধারণ করতে তাঁরা সক্ষম হয়েছেন। এক মাসের মধ্যে দরপত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যাপারে তাঁরা এগিয়ে যাবেন।

ঘাটারচরে অস্থায়ী বাস রাখার স্থান নির্ধারণের বিষয়ে দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, ইতিমধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ সমন্বয়ন করে দুটি জায়গা নির্ধারণ করেছে। তা পর্যালোচনা করা হবে। আগামী সভায় বাস রাখার স্থান নির্মাণের কার্যক্রমে হাত দেওয়া হবে।

গত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির ১৫তম সভায় ঘোষণা ছিল, এই রুটে কোম্পানির বাস কীভাবে চলবে, কতগুলো বাস চলবে, কতগুলো প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, আয় কীভাবে বণ্টন হবে—সার্বিক বিষয়ে নিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হবে। মাসখানেক পর অনুষ্ঠিত ১৬তম সভায় এসে মেয়র তাপস বললেন, যে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই রুটের জন্য একটি যৌথ মূলধনি চুক্তি তথা জয়েন্ট ভেনচার অ্যাগ্রিমেন্টের জন্য সাত দিনের মধ্যে খসড়া প্রণয়ন করা হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট বাসমালিকদের সঙ্গে বসে কোনো শর্ত সংযোজন-বিয়োজন করতে হলে সে বিষয় পর্যালোচনার পর সমন্বয়ন করা হবে। আগামী সভায় তা প্রতিবেদন আকারে পেশ করা হবে। তারপর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে তারা হাতে দেবেন।

মেয়র তাপস জানান, বর্তমানে এই রুটে দুটি প্রতিষ্ঠানের বাস চলছে। সব মিলিয়ে ১৫৫টি বাস এই রুটে চলাচল করছে। তাঁরা যে যৌথ মূলধনী চুক্তি করবেন, তাতে এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন