বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে সার্ভেয়ার মাহবুবুর রশিদের মুঠোফোনে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনজুরুল কবীরের কল আসে। কল রিসিভ করে কথা বলা শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দলকে সার্ভেয়ার তাঁর কক্ষে ফেরত যেতে অনুরোধ করেন। পরে আর কোনো লঞ্চে অভিযান পরিচালনা না করে সদরঘাটে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভেয়ারের দপ্তরে ফেরত যান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

default-image

পরে সার্ভেয়ারের কক্ষের বাইরে পাওয়া যায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়াকে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মিছিলের নেতৃত্ব দিইনি; বরং আমি শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়েছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখন মোবাইল কোর্টে অনিয়ম ধরা পড়ছে? নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার ও পরিদর্শকেরা এত দিন কী করেছেন? তাঁরা লঞ্চে পরিদর্শন না করেই ফিটনেস সনদ দেন।’

অভিযান স্থগিত হলে কয়েকজন লঞ্চমালিকসহ সার্ভেয়ারের কক্ষে আসেন মালিকদের সংগঠন অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ঢাকা নদীবন্দর স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক মো. মামুন–অর–রশিদ। যেহেতু ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা মালিকদেরই পরিশোধ করতে হয়, তাই মালিকেরাই শ্রমিকদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মিছিল সম্পর্কে জানি না। তবে মালিকেরা তো আর মাঠে নামতে পারেন না, শ্রমিকেরা পারেন।’

ইঞ্জিনরুমসহ লঞ্চে ত্রুটির দায় কর্মচারীদেরই বলে মন্তব্য করেন মামুন–অর–রশিদ। তিনি বলেন, অনিয়ম বা ত্রুটি থাকলে তা দেখার দায়িত্ব সুপারভাইজারের। মালিকেরা সুপারভাইজারের ওপর নির্ভরশীল। তা ছাড়া ইঞ্জিনরুমের তেলের লাইনে লিকেজসহ অন্যান্য ত্রুটির দায় ড্রাইভারের।

মামুন–অর–রশিদ মেসার্স এ আহমেদ শিপিং করপোরেশন নামের লঞ্চ কোম্পানির মালিক। নানা অনিয়ম পাওয়ায় গত বুধবার তাঁর মালিকানাধীন ঢাকা-পাতারহাট (বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ) রুটের এমভি ইয়াদ-৩ লঞ্চকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়। অভিযানে চারটি লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টারকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লঞ্চগুলো হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল নৌপথের এমভি মানামী, এমভি কীর্তনখোলা-১০, ঢাকা-আয়েশাবাগ (ভোলার চরফ্যাশন) রুটের এমভি কর্ণফুলী-১২ ও ঢাকা-খেপুপাড়া (পটুয়াখালীর কলাপাড়া) রুটের এমভি জাহিদ-৮।

প্রথম দিনের মতো আজও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রায় সব লঞ্চেরই ইঞ্জিন ও জেনারেটর থেকে তেল চুইয়ে পড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া ইঞ্জিনের তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিক না থাকা, অননুমোদিত জিনিসপত্র রাখা, রান্নাঘরে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা, ডেকে অরক্ষিত অবস্থায় তেল-মবিলের ড্রাম রাখা, খোলা পাত্রে তেল রাখা, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ত্রুটিপূর্ণ হওয়া, এসব সরঞ্জাম হাতের নাগালে না রাখা, নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দৃশ্যমান স্থানে না রাখা ইত্যাদি নানা অভিযোগে লঞ্চগুলোকে জরিমানা করা হয়।

default-image

অভিযান চলাকালে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের ইঞ্জিন পরিচালকের (ড্রাইভার) যথাযথ সনদ না থাকায় লঞ্চটির যাত্রা বাতিল করা হয়। পরে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করবেন মর্মে মালিকের দেওয়া মুচলেকার ভিত্তিতে লঞ্চটিকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়। একই অপরাধে মানামী লঞ্চেরও যাত্রা বাতিল করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো হলে এটিকে অনুমতি দেওয়া হয়। তবে লঞ্চটি চলছিল অস্থায়ী ফিটনেস সনদ নিয়ে।

বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর। এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন