দোকানের উদ্যোক্তা মো. নাসির প্রথম আলোকে বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকে বাইরে চা খেতে চায়, কিন্তু রাস্তার টংদোকানগুলোতে তেমন পরিবেশ পাওয়া যায় না। মোটামুটি দামের মধ্যে সবাই মিলে চা খাওয়ার মতো একটা পরিবেশ দিতেই দুই বছর আগে দোকানটি চালু করা হয়।

আদাবরে শেখেরটেক ১২ নম্বর সড়কে কাছাকাছি দূরত্বে চা–কেন্দ্রিক তিনটি দোকান। এদের মধ্যে ‘ফু’ দোকানটি চালু হয় ২০১৮ সালের নভেম্বরে। দোকানটির স্লোগান ‘গরম চা ফু দিয়ে খা’। বর্তমানে ফুঁ-এর মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোড এবং তাজমহল রোডে আরও দুটি দোকান রয়েছে। ফু-এর একবার ব্যবহার উপযোগী চায়ের কাপগুলোরও রয়েছে নিজস্বতা। কাপে লেখা ‘প্রতিটি কাপ আমাদের একটি গল্প বলে।’ সত্যিই তো চায়ের প্রতিটি কাপের সঙ্গেই মিশে থাকে নানা গল্প।

রং চায়ের মধ্যে রয়েছে স্পেশাল রং চা, মরিচ, জিরা, পুদিনা, কালোজিরা, আমলকী, মাল্টা ও মসলা চা। দুধ চায়ের মধ্যে খেজুর গুড়, কফিমিক্স, মাল্টোভা, ওভালটিন ও চকলেট চা অন্যতম।

ফু-এর স্বত্বাধিকারীদের একজন লিখন হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কফি নিয়ে দেশে অনেকে কাজ করেন। কিন্তু চায়ের দোকানের তেমন কোনো ব্র্যান্ড নেই। অন্দরসজ্জার ক্ষেত্রে চিত্রকর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের চায়ের নানা স্বাদ দিতে চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে ১৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে প্রায় ১০০ ধরনের চা পাওয়া যায়।

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে নানা বয়সীরা আড্ডায় মেতে ওঠেন। দেশ, রাজনীতি, চাকরির বাজার, খেলা, সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ডিং ইস্যু—কী থাকছে না আড্ডার বিষয়ে।

শেখেরটেকের ‘চুমুক’–এ বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা শাওন কৈরী। তিনি বললেন, ‘একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন আশপাশে থাকে। মাঝেমধ্যেই অফিস শেষে এখানে চলে আসি। নিজেদের মতো কিছু সময় কাটানো যায়।’

default-image

‘চা বেলা’ দোকানটির অন্দর ও বাইরের সজ্জা বেশ আকর্ষণীয়। বাইরে সবুজ গাছপালা, ভেতরে লাল ইটের ব্যবহার। চা বেলার বাইরেও বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বেলা ১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ভেতর-বাইরে মিলিয়ে ২৬ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
চা বেলার ব্যবস্থাপক সোহাইল শুভ প্রথম আলোকে বলেন, এটিকে শুধু চায়ের দোকান হিসেবে ব্যবসার জন্য দেওয়া হয়নি। সুন্দর পরিবেশে চায়ের আড্ডায় বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হবে, শিল্প নিয়ে কথা হবে—মূল উদ্দেশ্য এটি। চায়ের পাশাপাশি ওয়াফেল, ব্রাউনি এই দোকানের বিশেষ পদ।

প্রতিটি দোকানেই নানা ধরনের উপাদান ব্যবহার করে চা বানানো হয়। রং চায়ের মধ্যে রয়েছে স্পেশাল রং চা, মরিচ, জিরা, পুদিনা, কালোজিরা, আমলকী, মাল্টা ও মসলা চা। দুধ চায়ের মধ্যে খেজুর গুড়, কফিমিক্স, মাল্টোভা, ওভালটিন ও চকলেট চা অন্যতম। বাঁশ দিয়ে তৈরি ‘ব্যাম্বো চা’-এর মতো একেবারে ভিন্ন স্বাদের চা-ও পাওয়া যায় কোনো কোনো দোকানে।

তাজমহল রোডে পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান। এর মধ্যে রয়েছে টংঘর, শাহী টি জংশন, চায়ের আড্ডা ও টি জোন। তবে এখানকার সব দোকানে বসে চা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তবে আগারগাঁও ষাট ফিট সড়কে চাওয়ালাতে বসে চায়ের স্বাদ নেওয়া যায় বেশ আয়েশ করেই।

তবে শুরুতে আশপাশের অনেকেই ভ্রু কুঁচকে তাকাত বলে জানান উদ্যোক্তারা। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। তাঁদের ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে, ব্যবসাও ভালো চলছে। এখন অনেকেই চায়ের দোকান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। একটি চায়ের দোকানের উদ্যোক্তা জানান, শুরুতে তাঁদের বিনিয়োগ ছিল পাঁচ লাখ টাকা৷ এখন সেটি এক কোটির ওপরে। লাভজনক হওয়াতেই বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন