ছাত্রীর অভিযোগে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগছবি: সংগৃহীত

এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগের একাডেমিক কমিটি৷ তবে বিশ্বজিৎ ঘোষ তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া এসব সিদ্ধান্তকে ‘নাটকীয়তা’ বলেছেন। বিশ্বজিৎ ঘোষ ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজিজুল হকের কাছে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দেন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী৷ ২৯ মার্চ বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় অভিযোগটি উত্থাপন করা হলে কমিটি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বজিৎ ঘোষসহ ১৮ শিক্ষক ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বজিৎ ঘোষ আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি একেবারেই একটা নাটকীয়তা। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজিজুল হকের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করে তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি ৷ বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা বলে তাঁরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির ওই সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর আনা যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান একাডেমিক কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি ওই ছাত্রীর অভিযোগপত্রটি পড়ে শোনান। কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশ্বজিৎ ঘোষ ওই ঘটনায় তাঁর ভুল হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি সবার কাছে ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষা’ করেন। কিন্তু একাডেমিক কমিটির সদস্যরা তাঁর দ্বারা সংঘটিত অতীতের বিভিন্ন যৌন নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রার্থনা গ্রহণ করেননি। বিশ্বজিৎ ঘোষ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে তা সত্য বলে মনে হয়নি। বরং তাঁর ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষার’ ঘটনায় তাঁর অপরাধ স্বীকারের বিষয়টিই প্রমাণিত হয়।

কার্যবিবরণীতে আরও বলা হয়, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এগুলো হলো সব একাডেমিক কার্যক্রম (সব ধরনের ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষায় প্রত্যক্ষণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, এমফিল-পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধায়ন, পরীক্ষা কমিটির কাজে অংশগ্রহণ প্রভৃতি) থেকে বিশ্বজিৎ ঘোষকে অব্যাহতি দেওয়া, ভবিষ্যতে তাঁকে কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত না–করা, সিঅ্যান্ডডি ও একাডেমিক কমিটির সভায় তাঁকে না ডাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে তাঁর নামে বরাদ্দ থাকা বিভাগীয় কক্ষ বাতিল, আরও বৃহত্তর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে কি না, অভিযোগকারীর মতামত সাপেক্ষে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তদন্তের সময়ও একাডেমিক কমিটির এসব সিদ্ধান্ত বহাল রাখা।