বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরে মরদেহ শনাক্ত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে যান মাহফুজুর। মরদেহ শনাক্ত করেন। কিন্তু দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিবারের কাউকেই জানাননি যে রুহুল আমিন আর নেই। ঢাকা মেডিকেলের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

পরে রুহুল আমিনের বন্ধু এবং অন্যান্য সহকর্মীদের পরামর্শে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান তিনি।

আকস্মিক এমন সংবাদে হতবিহ্বল পড়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য রুহুলের তিন বছরের মেয়ে নূহাকে বোঝানো যায়নি তার বাবা আর আসবেন না। অন্য সদস্যদের বারবার জিজ্ঞাসা করছে বাবা কখন আসবে।

গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছেলের খোঁজ পেতে অপেক্ষা করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক মা–বাবা। স্ত্রী নাবিলা ও তিন বছরের একমাত্র কন্যা নূহা তখন রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসায়।

দুই বোনের একমাত্র ভাই নোমান। বড় বোনের স্বামী মাহফুজুর রহমানের ল ফার্ম রহমান অ্যান্ড রহমান অ্যাসোসিয়েটসে এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতেন নোমান। দাপ্তরিক কাজে যাত্রাবাড়ী গিয়েছিলেন, সেখান থেকে মগবাজারে অফিসে ফেরার পথে বাসে অথবা ফুটপাতে ছিলেন তিনি।

নোমানের বন্ধুরা বলছিলেন, শরীরের বাঁ দিক বিস্ফোরণের আঘাত লেগেছে। এ থেকে তাঁদের ধারণা, নোমান বাসের বাঁ দিকে বসা ছিলেন অথবা ফুটপাতে ছিলেন।

নোমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউডার ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার পর জনা বিশেক বন্ধু ভিড় করেছেন মর্গের সামনে। অত্যন্ত বিনয়ী নোমানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত সবাই।

বন্ধু ও সহকর্মী শাশ্বত মো. হাদিম জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল তাঁরা।
গতকালের বিস্ফোরণে ৬ জন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন স্বপন, রুহুল আমিন নোমান, আবুল কাশেম, রেডিও ধ্বনির কর্মী মোস্তফিজুর রহমান, জান্নাত ও তাঁর মেয়ে তায়ৈবা।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন