default-image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সন্তান তার বাবার লাশ হাসপাতাল থেকে নিতে রাজি হচ্ছিল না। তখন পুলিশ (ডিএমপি) সেই লাশ নিয়ে দাফন করেছে। শুধু করোনায় মারা যাওয়া লাশের দাফনই নয়, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনসহ যখনই প্রয়োজন তখন ডিএমপির সদস্যরা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

ডিএমপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘গত বছরের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে আমরা দিশেহারা ছিলাম। চিকিৎসকেরা প্রথমে এই রোগের চিকিৎসা জানতেন না। হাসপাতালে করোনায় বাবার মৃত্যু হলে সন্তান লাশ ধরত না।

বিজ্ঞাপন

বাড়িতে মা আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হতো না। তখন পুলিশ গিয়ে ডেড বডি দাফন ও করোনায় আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পাশের দেশ ভারতে আমন্ত্রণে গেলে সেখানকার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করেন।’

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ১৯৭৬ সালে ডিএমপি প্রতিষ্ঠা হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় ডিএমপির অনেক সাফল্য গাথা আছে। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সফলতার সঙ্গে বিনা রক্তপাতে ডিএমপি হেফাজতের তাণ্ডব মোকাবিলা করেছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। করোনার ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশবাসীকে সেবা দিয়েছে। করোনায় এ নিয়ে পুলিশ বাহিনীতে মারা যাওয়া ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জনই ডিএমপির।

স্বরাষ্ট্রসচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, রাজধানীতে ২ কোটি মানুষের জন্য মাত্র মাত্র ৩০ হাজারের কিছু বেশি পুলিশ সদস্য আছে। মহানগরীতে নতুন নতুন ধরনের অপরাধ হচ্ছে। এসব মোকাবিলা দুরূহ হলেও সেই দুরূহ কাজটি ডিএমপি করছে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ৪৬ কেজি ওজনের কেক কেটে ডিএমপির ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করা হয়।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগ, দুর্দিন, বিপদ-আপদে ডিএমপি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। মানুষকে সেবা করার যে বিরল সুযোগ হয়েছে সেটা সবার ভাগ্যে জোটে না।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুলিশের সহকারী কমিশনার থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন