জনগণের ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনে আদালতে যাবেন মেয়র আতিক
জনগণের ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনে নিজে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি মহামান্য আদালতে উপস্থাপন করব। সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকায় ঢাকা ওয়াসা থেকে পাওয়া পয়োনালা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার স্থান সরেজমিন পরিদর্শনকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
আতিকুল ইসলাম এ সময় বলেন, ‘কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মাত্র ৮০ মিটার পয়োনালার কাজ শেষ না করতে পারায় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা বেড়ে গেছে। ফলে এ এলাকার জনগণের দুর্ভোগ এখন চরম পর্যায়ে। আশা করছি, আদালত জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুতই এর সুষ্ঠু সমাধান দেবেন।’
এর আগে গত ১ জুন প্রথম আলোতে ‘ঠিকাদারের রিটে বন্ধ নালা নির্মাণ, যানজটে ভোগান্তি’ শিরোনামে এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ওই পয়োনালার কাজ শেষ না করেই কাজ বন্ধ করে ঢাকা ওয়াসা তাঁদের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশন নিজেদের অর্থায়নে কাজ শুরু করলে ওয়াসার আওতায় কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার এ নিয়ে মামলা করেন। আদালত পরে সেখানে স্থগিতাদেশ দেন। ফলে ওই নালার উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
পরিদর্শন শেষে মেয়র আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এখানে এসে দেখলাম, আগের ঠিকাদার নালার ভেতরে তাঁদের ব্যবহৃত পাইপ, বালুর বস্তা, কাঠসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পরিষ্কার না করে ফেলে রেখে গেছেন। ফলে নালার পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ওই নালাগুলো পরিষ্কার করছে।’
জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে সেখানে চারবার গেছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এর আগেও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও ওয়াসার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। ডিএনসিসি এ অংশের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে।’
ভোগান্তির সমাধান কী হবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, এখানে কাজের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। ইতিমধ্যে পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি চলে এসেছে। অর্থও বরাদ্দ দেওয়া আছে। আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে মাত্র চার দিনে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
মেয়র আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা নালা পরিষ্কারের সময় সেখানে প্রচুর পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্য নানা ধরনের বর্জ্য পাচ্ছেন। নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ, আপনারা এ ধরনের বর্জ্য নালার ফেলবেন না।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মেয়র আতিক মিরপুরের ৬০ ফুট সড়ক এলাকার বারেক মোল্লার মোড়ে যান। সেখানে একটি সরু রাস্তা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মেয়র সরু রাস্তাটি প্রশস্তকরণের উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশের জমির মালিকের সঙ্গে বাসায় গিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ওই জমির মালিককে নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা প্রশস্তকরণে প্রয়োজনীয় জমি ছেড়ে দেওয়ার এবং আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান।
এ সময় অন্যদের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এস এম শরিফ-উল ইসলাম এবং ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লা ও হুমায়ূন রশীদ উপস্থিত ছিলেন।