সম্প্রতি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অন্তত ১০ শিক্ষার্থী বলেন, তাঁরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার নয়, আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তাঁদের কেউই পরিচয় জানাতে চাননি।
শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সেন্টার থেকে ডায়রিয়ার প্রাথমিক ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁরা কাছের হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তারা। হলে সরবরাহকৃত পানি পরীক্ষা করার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হবে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আবাসিক হলের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, হলের ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি নিরাপদ পানির ফিল্টার বসানো হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে সরাসরি ওয়াসার সরবরাহ করা পানি পান করতে হচ্ছে। এ ছাড়া হলের ক্যানটিনে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করায় ডায়রিয়া বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্নি আক্তার বলেন, হলে কয়েকটি তলায় অনেকের ডায়রিয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়। এই পানি দিয়ে হলের ডাইনিংয়ে রান্না করা হয়। এ কারণে রান্না করা খাবার লাল রঙের হয়ে থাকে। শুরুর দিকে হলের মেয়েরাও এই পানি পান করতেন। এ কারণে ডায়রিয়ার মতো রোগ বাড়ছে। পুরো ১৬ তলা ভবনে মাত্র নিচতলার ডাইনিংয়ে একটিমাত্র ফিল্টার আছে। সেখান থেকে সবাইকে সারিবদ্ধ হয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। দ্রুত সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডাইনিংয়ে প্রধান পরিচালক নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হলের প্রধান সমস্যা নিরাপদ পানি। পানি কিছুক্ষণ গ্লাসে রাখলেই আয়রনের কারণে লাল হচ্ছে। গ্লাস ও জগে কয়েক দিনের মধ্যে আয়রন পড়ে যাচ্ছে।

ছাত্রীদের নিরাপদ খাবার সরবরাহের কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চাইলে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ হলে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। এতে সমস্যা কেটে যাবে। এ ছাড়া নিরাপদ পানি এনে রাখার মতো ব্যবস্থা আমাদের ডাইনিংয়ে নেই।’
শিক্ষার্থীদের ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ শামীমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাদের ডায়রিয়া হয়েছে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরুর কথা শুনে আমরা হল পরিদর্শন করি। ছাত্রীদের অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও নজরে এসেছে। সুস্থ থাকতে তাদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শুধু শুধু অভিযোগ করছে, পানি ঘোলা ও গন্ধ করছে। আমরা দেখতে পেয়েছি, পানি পরিষ্কার। তারা যেহেতু নতুন এসেছে, তাই মানিয়ে নিতে হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে। প্রতিটি তলায় পানির ফিল্টার বসানো হবে। এ ছাড়া পানি পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন