জাল জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি ও সরবরাহের সময় ৩ জন আটক
জাল জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে আটক করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত এ অভিযানে মেশিনের মাধ্যমে কোর্ট ফি পরীক্ষা করে তিনজনকে হাতেনাতে ধরা হয়।
পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরার দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর ভাই মনির হোসেন এবং কুমিল্লার তিতাসের জাকির হোসেন। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাল স্ট্যাম্প সিন্ডিকেটের কারণে বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্র বিপুল টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প আবেদন ও মামলা করা এবং রায় ও আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যা কোর্ট ফি নামে বেশি পরিচিত।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সূত্রের তথ্যমতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রতি কার্যদিবসে প্রায় এক হাজার মামলা হয়। এ মামলা বা আবেদন করতে জাল জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প (কোর্ট ফি) ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। এ অবস্থায় জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পরীক্ষার জন্য গতকাল বুধবার দুটি মেশিন আনা হয়। আজকের অভিযানে মামলা বা আবেদন করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক জাল কোর্ট ফি ব্যবহার করা হয়েছে। কোর্ট ফি (জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প) দুই টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যমানের হয়ে থাকে।
জাল কোর্ট ফির ব্যবহার রোধ এবং সরকার যাতে এ খাতের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সারা দেশের আদালতের জন্য পর্যায়ক্রমে কোর্ট ফি পরীক্ষার জন্য দুই হাজার মেশিন কেনা হবে বলে জানান মো. গোলাম রব্বানী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি ছাপাখানা এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রিন্টিং করপোরেশন অফিশিয়ালি কোর্ট ফি তৈরি করে থাকে। যে ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট জাল জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প তৈরি ও সরবরাহ করে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলা করার ক্ষেত্রে জাল কোর্ট ফি ব্যবহারের বিষয়টি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের অবহিত করা হয়। জাল কোর্ট ফির ব্যবহার রোধে প্রধান বিচারপতির অবস্থান কঠোর। রাষ্ট্রের বিপুল টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির অবস্থান জিরো টলারেন্স। সারা দেশের আদালতে জাল কোর্ট ফির ব্যবহার যেকোনোভাবে রোধ করতে হবে।