জয়ের মৃত্যু দুর্ঘটনা নয় পরিকল্পিত হত্যা, দাবি পরিবারের
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের সড়কে গাড়ি চাপায় নিহত ১৬ বছরের কিশোর জয়ের মৃত্যু দুর্ঘটনায় হয়নি। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমনটাই দাবি নিহতের পরিবারের। জয়ের বাবা শামসুদ্দিন জুম্মনের অভিযোগ, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ডাকাত সাজিয়ে তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন পুলিশের সোর্স রিয়াজ উদ্দিন।
শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জয়ের বাবা শামসুদ্দিন জুম্মন।
গত ৭ অগাস্ট রাতে চকবাজারের উর্দু রোডে গাড়িচাপায় নিহত হয় জয়। ঘটনার পরদিন রিয়াজ উদ্দিন নামে একজন জয়সহ ছয়জনের নামে ডাকাতির মামলা করেন। মামলার এজাহারে রিয়াজ বলেন, তাঁর কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় জয় গাড়ি চাপায় মারা যায়।
তবে শামসুদ্দিন জুম্মন সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ওই রাতে রিয়াজ ও রাব্বিসহ আরও পাঁচ থেকে ছয় জন জয়ের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাঁরা জয়ের গলা চেপে ধরে জোর করে চলন্ত গাড়ির দিকে ধাক্কা দেয়। এসময় হাসিব হোসেন আকিব নামে একজন জয়কে রক্ষা করতে দৌড়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। এ ঘটনাকে আড়াল করতে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে পরদিন মামলা করে রিয়াজ। পুলিশ রিয়াজ ও তাঁর সযোগীদের সহায়তা করেছে।
শামসুদ্দিন জুম্মন বলেন, রিয়াজ ও তাঁর সহযোগীরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এসব কাজের প্রতিবাদ করায় জয়কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছের একটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় হত্যার দৃশ্য ধরা পড়েছে। এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শকের সহায়তা চান তিনি।
এই বিষয়ে রিয়াজ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তাঁর দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইউম প্রথম আলোকে বলেন, জয়সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা করেছেন রিয়াজ উদ্দিন। তাঁরা সবাই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। ছিনতাই করে পালানোর সময় গাড়ি চাপায় নিহত হয় জয়। এই ঘটনায় স্থানীয়রা জয়ের দুই সহযোগীকে আটক করে। পরে আটক হয় আরও তিনজন। এখানে অন্য কোনও ঘটনা নেই।