বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আলঝেইমার দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিমেনশিয়া জানুন, আলঝেইমার চিনুন’। এ উপলক্ষে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ডিমেনশিয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা হয়। আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস লি.–এর আয়োজনে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের সহযোগিতায় এ আলোচনা হয়।

মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রমে অবনতি হওয়া, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, চিন্তাচেতনার পরিবর্তন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতাকে ডিমেনশিয়া বলে। গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, আলঝেইমার বৃদ্ধ বয়সে হয় এবং ডিমেনশিয়া যেকোনো বয়সে হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বিশ্বে সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল গত জুলাইয়ে ডিমেনশিয়া নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দেশে প্রতি ১২ জন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির ১ জন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে ১১ লাখ ডিমেনশিয়া রোগী আছেন।

গোলটেবিল আলোচনায় আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারলে মো. আজিজুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ডিমেনশিয়া নিয়ে সমাজে সচেতনতার অভাবে সঠিক চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ কম এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও কেয়ারগিভার খুব কম। এ ছাড়া পুনর্বাসন বা ডে–কেয়ার সেন্টার নেই।

আজিজুল হক নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, একজন ডিমেনশিয়ার রোগীকে শিশুদের মতো করেই যত্ন নিতে হয়। তিনি সরকারের কাছে বেশ কটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর কয়েকটি হলো জাতীয় ডিমেনশিয়া নীতি প্রণয়ন, অসংক্রামক রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, বিশেষায়িত হাসপাতাল করা, প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা, দেশের সব বিভাগে পুনর্বাসন বা ডে–কেয়ার সেন্টার করা, সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা।

ডিমেনশিয়াবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস লি.–এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরদার এ নাঈম। তিনি বলেন, কোনো রোগী বা পরিবার যেন অবহেলায় না বাঁচে। রোগটিকে গ্রহণযোগ্য করতে হবে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ডিমেনশিয়া রোগীদের জন্য আলাদা একটি কর্নার আছে। তবে পুরোপুরি আলাদা চিকিৎসাব্যবস্থা নেই। তিনি আশা করেন, বিষয়টি নিয়ে জোর দাবি তুললে তা বাস্তবায়িত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের চেয়ারপারসন তাওহিদা জাহান বলেন, মানুষ স্মৃতিকাতর। জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত সে মনে রাখে। কেউ যদি জীবনের এই মুহূর্তগুলো মনে করতে না পারেন এবং তাঁর স্মৃতির দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে সে জীবন। মানুষ যখন কিছু মনে করতে না পারে, তখন ভাষাগত যোগাযোগে সমস্যা হয়।

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী বদরুল ইসলাম বলেন, ডিমেনশিয়া রোগটি যখন হয়ে যায়, তখন তা আর সারে না। কিন্তু লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রোগটি হলে অনেকেই পাগলের চিকিৎসা করান এবং সে রকম ওষুধ দেন। এতে হিতে বিপরীত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস ও কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের চেয়ারপারসন তাওহিদা জাহানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সাংসদ সেলিনা জাহান, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কবির আহমেদ ভুঞা প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন