বিকেল পাঁচটার দিকে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁওয়ের মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় খুন হন তানিয়া আক্তার। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, তানিয়ার মেয়ের বয়স ৩ বছর, ছেলের বয়স ১০ মাস। বিকেলে এক বা দুজন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে মেয়েটির মুখে টেপ পেঁচিয়ে তানিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তানিয়ার মেয়ে বাইরে এসে কান্না করলে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, বাসার মেঝেতে তানিয়ার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তাঁর মাথা ও পিঠে তিনটি জখম দেখা গেছে। তাঁর স্বামী মাইনুল হোসেন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, এয়ারকুলার ঠিক করতে বাসায় একজন লোক আসার কথা ছিল। ওসি বলেন, তানিয়াকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তানিয়াদের ঘরের আলমারি খোলা। মালামাল এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। বাথরুমে এয়ারকুলার পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তানিয়ার মেয়েকে তৃতীয় তলায় এক প্রতিবেশীর বাসায় রাখা হয়েছে। ১০ মাস বয়সী ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তানিয়ার কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা তানিয়ার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য দিতে পারেননি। ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন বিভাগের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন।

পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে খুনের কারণ এবং খুনের সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসা থেকে কিছু খোয়া গেছে কি না, তা-ও জানা যায়নি। তানিয়ার গ্রামের বাড়ি রংপুরে। তাঁর স্বামী মাইনুল হোসেন ফরিদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি এলে বিস্তারিত জানা যাবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন