ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী আখলাকুজ্জামান অনিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার বিকেলে আমি ও আমার বিভাগের ছোট ভাই জাদীদ বিজয় একাত্তর হলের সামনে নাটকের ব্যানার টাঙাতে যাই। তখন কিছু শিক্ষার্থী সেখানে আসেন। তাঁদের সঙ্গে আমারও কুশলাদি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে মাশফি নামের এক ছাত্র আমাকে বলেন, “আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিন দিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেখা হয়েছিল।” কিন্তু আমি তাঁকে চিনতে পারিনি। দীর্ঘদিন ধরে আমি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাই না। গতকালই মাশফির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ও দেখা।’

default-image

আখলাকুজ্জামান অনিক আরও বলেন, ‘গতকাল রাত আটটার সময় মাশফিসহ কিছু শিক্ষার্থী জাদীদদের কক্ষে যান। মাশফি জাদীদকে বলেন, আমার সঙ্গে তাঁর (মাশফি) ঝামেলা৷’ মাশফি আরও বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুজন বন্ধুসহ আমি তাঁকে তাঁর প্রেমিকার সামনে ডেকেছি৷ আমার বন্ধুরা নাকি তাঁকে জেরা ও মারধর করেছেন আর আমি নাকি ভিডিও করেছি। এরপর আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ১০-১২ শিক্ষার্থী আমার কক্ষে গিয়ে কোনো কিছু না বলেই টানাহেঁচড়া শুরু করেন। আমাকে কক্ষ থেকে বের করে লাথি-ঘুষি ও নানাভাবে আঘাত করতে থাকেন৷ এমনকি চেক করার কথা বলে আমার মুঠোফোনটিও নিয়ে নেন তাঁরা। ঘণ্টা দুয়েক পর মুঠোফোনটি ফেরত পাই৷’

নিজের বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান আখলাকুজ্জামান। তিনি জানান, স্টাম্পের আঘাতে তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই পড়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের ফলে তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে চিনতে পেরেছেন আখলাকুজ্জামান। মাশফি ছাড়া অন্য তিন হামলাকারী হলেন অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সফিউল্লাহ সুমন ওরফে পিটার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাব্বির আল হাসান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাইমুর রশিদ৷ এই তিনজন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—সবাই ছাত্রলীগের কর্মী।

অভিযুক্ত মাশফি উর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। আখলাকুজ্জামান অনিক ভুল বলছেন।

এ ঘটনায় আজ বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আখলাকুজ্জামান। এ বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন