বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের একাধিক হলের পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেছেন, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে নয়টার গিকে তাঁরা কমিটি গঠন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাঁরা হল কমিটির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাইলে সাদ্দাম তাঁদের আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে লেখক ভট্টাচার্যের বাসায় যান তাঁরা। পরে আল নাহিয়ান খান ও লেখক তাঁদের নিয়ে আলোচনার জন্য টিএসসি এলাকায় যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে দেড়-দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়। এ সময় তর্কাতর্কিও হয়েছে। পরে আল নাহিয়ান ও লেখক চলতি মাসের মধ্যেই কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা প্রথম আলোকে বলেন, হল কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার চার শীর্ষ নেতা আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সেখানে কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়ার বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একজন ফোন ধরেননি। আরেকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চলতি মাসের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি হচ্ছে।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল কমিটি হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী।

নৈতিক স্খলনসহ নানা অভিযোগে ২০১৯ সালের শেষে রেজওয়ানুল ও রাব্বানী ছাত্রলীগের পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান আল নাহিয়ান ও লেখক ভট্টাচার্য। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁদের ভারমুক্ত করে দেওয়া হয়। রেজওয়ানুল-রাব্বানী ও আল নাহিয়ান-লেখকের দীর্ঘ সময়ের মেয়াদকালেও হয়নি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার হল কমিটিগুলো। সম্প্রতি কয়েক দফায় তারিখ ঠিক করেও কমিটি গঠনে হল সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি ছাত্রলীগ।

অপর দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ হল সম্মেলন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সেই কথা রাখতে সফল হননি সনজিত ও সাদ্দাম। প্রথম দিকে তাঁরাও হল কমিটি বিলম্বিত করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগেরও দায় রয়েছে। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার অনুসারীরা পদ পান। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতার অনুমোদন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি ঘোষণার অলিখিত রীতি রয়েছে। ফলে তাঁদের চাওয়ার ওপরও হল কমিটি হবে কি না, তা নির্ভর করে।
এখন ক্যাম্পাসে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে, আল নাহিয়ান ও লেখক ভট্টাচার্যের অসহযোগিতার কারণে হল কমিটি আটকে আছে। মূলত এ কারণেই গত রাতে তাঁরা দুজন হল শাখার শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন