দ্রুত টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন তাঁরা

প্রতীকী ছবি

মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিদেশগামী ব্যক্তিদের দ্রুত করোনার টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি প্রতারক চক্র। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দুই শতাধিক বিদেশগামী ব্যক্তিদের কাছ থেকে আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নুরুল হক, সাইফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন ও দুলাল মিয়া।

মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিদেশগামী ব্যক্তিদের দ্রুত করোনার টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি প্রতারক চক্র। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দুই শতাধিক বিদেশগামী ব্যক্তিদের কাছ থেকে আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নুরুল হক, সাইফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন ও দুলাল মিয়া।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, কয়েকজন প্রতারক বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে অবস্থান করে বিদেশগামী প্রার্থীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। গণমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর ওই প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৩–এর একটি দল মুগদায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা নুরুল হক এবং তাঁর তিন সহযোগী সাইফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন ও দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারকেরা র‌্যাবকে বলেছেন, সরকারি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তাঁরা বিদেশগামী ব্যক্তিদের খুদে বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি সাতটি হাসপাতাল বিদেশগামী ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। প্রতারকেরা ওইসব হাসপাতালের সামনেই অবস্থান নিতেন। ভিসা ও বিমান টিকিটের স্বল্প মেয়াদের কারণে বিদেশগামী ব্যক্তিরা দ্রুত টিকা পেতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করতেন। প্রতারকেরা সেই সুযোগই বেছে নেন। তিনি বলেন, বিদেশগামী ব্যক্তিদের করোনার টিকা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। অনলাইনে ফরম পূরণ করলে কেউ স্বাভাবিক নিয়মে, আবার কেউ উৎকোচ দেওয়ার মাধ্যমে এসএমএস পেতেন। স্বাভাবিক নিয়মে এসএমএস পেলে প্রতারকেরা তাঁদের জন্য এসএমএস গেছে বলে টাকা হাতিয়ে নিতেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিদেশগামী আবার কেউ এসএমএস না পেয়েও প্রতারিত হতেন। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বলেছেন, চক্রের মূল হোতা নুরুল ইসলাম। গ্রেপ্তার সাইফুল ও ইমরান হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে বিদেশগামী ব্যক্তিদের দ্রুত এসএমএস পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রলোভন দেখাতেন। পরে টিকাপ্রার্থীদের কাছে চক্রের মূল হোতা নুরুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। নুরুল বিদেশগামী ব্যক্তিদের সঙ্গে দর-কষাকষি করে টাকার অঙ্ক ঠিক করতেন। দফারফা হওয়ার পর নুরুল বিদেশগামী ব্যক্তিদের দুলালের কাছে নিয়ে যেতেন। টাকার ওপর নির্ভর করে দুলাল সেই টিকা এক দিনে না চার দিনে পাওয়া যাবে, সেই ব্যবস্থা করতেন।

রাজধানীর মুগদা, রমনা ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় এসব প্রতারক চক্র তৎপর রয়েছে।র‌্যাব পরিচালক মঈন বলেন, নুরুল দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। ২০১৮ সালে ভিসা জটিলতায় তিনি বিদেশে যেতে পারেননি। ১৯৯৮ সালে লিবিয়ায় যান তিনি। প্রতারক চক্রের সদস্য সাইফুল আগে সরকারি কাজ করতেন। অনৈতিক কাজের কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সরকারি চাকরি চলে যায়। ইমরান একটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দুলাল একটি সরকারি হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত।