default-image

নবাব সলিমুল্লাহর নাতি আলী হাসান আসকারি পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি এখন পুলিশকে বলেছেন, তাঁর নাম শফিকুল ইসলাম ওরফে হৃদয়। কিন্তু তাঁর এই নাম নিয়েও সন্দিহান পুলিশ। জাতীয় পরিচয়পত্র করতে গিয়ে তিনি যে ঠিকানা দিয়েছেন, তা–ও ভুয়া। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।

এদিকে নবাবের নাতি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার আরও অভিযোগ আসছে। তাঁর ব্যাংক হিসাবের তথ্য পেতে আজ রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া প্রতারণার মামলার সূত্র ধরে গত বুধবার রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে আলী হাসান আসকারি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি।

সিটিটিসির কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁর নাম শফিকুল বলেছেন। তবে সেটা নিয়েও তাঁরা সন্দিহান। তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে ঠিকানা দিয়েছেন উত্তরার মাসকট প্লাজা। কিন্তু সেখানে তাঁর কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত সংস্থা সিটিটিসি সূত্র বলছে, ওই ব্যক্তি নানা রকমের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতারণার এসব টাকা কোন কোন ব্যাংকে আছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেওয়া হবে। সেখান থেকে তথ্য পেলে তাঁর অর্থ–সম্পদের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি সিটিটিসিকে তাঁর নানা ধরনের প্রতারণার তথ্য দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ রোববার চার সহযোগীসহ তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিটিটিসির উপকমিশনার মো. মাহফুজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই ব্যক্তি সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করতেন। তদন্তে জানা গেছে, কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় তিনি একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকার বিনিময়ে নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে যেতেন। ওই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। এখন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, আলী হাসান আসকারি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি বলেছেন, তাঁর প্রকৃত নাম শফিকুল ইসলাম ওরফে হৃদয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ওই ব্যক্তির প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন আজ সিটিটিসি কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করেন, গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) কার্যালয়ে যান।

সেখানে আসকারি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি জানতে পারেন তিনি (বেলাল) চটের বস্তা কিনতে পাটকল খুঁজছেন। তখন ওই ব্যক্তি বলেন, নবাব আসকারি জুট মিল তাঁর নামে। তিনি বেলালকে চাহিদামতো তিন লাখ চটের বস্তা দিতে পারবেন বলে জানান। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি চটের বস্তা ৫৬ টাকা দরে তিন লাখ বস্তার দাম হয় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ওই টাকা তিনি ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা দেন। পরে চটের বস্তা আনতে ওই জুট মিলে গেলে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বহু খোঁজ করেও তিনি আলী হাসান আসকারি পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির সন্ধান পাননি। বেলাল হোসেন এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0