বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনকালে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে লক্ষণীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এখনো সম্ভব হয়নি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নানাবিধ উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও সহিংসতার মাত্রা ও ভয়াবহতা ক্রমাগত উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাত এ সংকটকে গভীরতর করে তুলেছে। লিখিত বক্তব্যে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সব ক্ষেত্রে নারীর সম–অধিকার নিশ্চিত করাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গৃহীত সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে নারীর প্রতি সহিংসতামুক্ত সংস্কৃতি চর্চা করা; মানবাধিকার সম্পর্কে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা; নারীর জন্য ক্ষতিকর প্রথা (বাল্যবিবাহ, যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত সালিসি কার্যক্রম, বহুবিবাহ) বন্ধ করা; আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন ও বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নারীবান্ধব ও জেন্ডার সংবেদনশীল করে তোলা; সিডওসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলসমূহ প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করা; পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০–এর প্রচার ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা; ধর্ষণের ঘটনার বিচারসংক্রান্ত আইনের সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করা; অপরাধীকে কোনো রকম রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদান বন্ধ করা; সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সমাবেশের নামে নারীর প্রতি নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণা (অনলাইন, অফলাইন) কঠোরভাবে দমন করা; গণমাধ্যমে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য, ছবি প্রকাশ ও প্রচারণা বন্ধ করা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে আইন প্রণয়ন করা; নির্যাতনের শিকার নারীকে দোষারোপ বন্ধ করা; তরুণ সমাজকে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকারে উদ্বুদ্ধ করে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ধারা ১৫৫(৪) বাতিল করা; জাতিসংঘের সিডও সনদের অনুচ্ছেদ-২ ও ১৬(১)(গ) এর ওপর হতে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা এবং বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন পরিবর্তন করে সব নাগরিকের সম–অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করা (বিবাহ ও বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, দত্তক, সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিষয়গুলো)।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন