default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি বড় সরকারি কলেজের পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে নিউমার্কেট থেকে আজিমপুরগামী সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কলেজের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
এ ঘোষণা জানাজানির পর রাত আটটা থেকে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করেন। প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘হল ক্যাম্পাস খোলা চাই, দাবি মোদের একটাই।’
এর আগে সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত (ফোকাল পয়েন্ট) ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার প্রথম আলোকে জানান, সাত কলেজের সব পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা গেছে, আজ সাত কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট তিনজন ডিনকে নিয়ে সভা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সভাতেই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৪ মে থেকে দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। তার আগে ১৭ মে আবাসিক হলগুলো খুলবে। খোলার আগে কোনো পরীক্ষা হবে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা ও হল খোলার ঘোষণা দিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তও বাতিল হবে। অবশ্য অনলাইনে ক্লাস চলবে।
এই ঘোষণার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের চলমান পরীক্ষাগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। এ অবস্থায় সাত কলেজের পরীক্ষার কী হবে, সে বিষয়টি সামনে আসে। সে বিষয়েও আজ সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত হলো।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এই কলেজগুলোতে মোট শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ।

default-image

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ কমিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলেও সমস্যাগুলো এখনো দূর হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কলেজগুলোর বড় সমস্যা হলো ঠিক সময়ে পরীক্ষা না নেওয়া এবং দেরিতে ফল প্রকাশ করা। এই সমস্যা নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন