সিলেট ও সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ বলেন, ‘সেদিকে (বন্যাদুর্গত এলাকা) সরকারের খেয়াল নেই। এখন তারা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের উৎসব উন্মাদনায় মত্ত। উৎসব উদ্‌যাপনে আমাদের আপত্তি নাই। কিন্তু দেশের বর্তমান দুর্গত মানুষের দুঃখ–দুর্দশায় এই উৎসব করাটা অমানবিক ও বেমানান বৈকি। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে শুভ উদ্বোধন করুন। তবে উল্লাসের মাত্রাহীন উন্মাদনা বন্ধ করুন দয়া করে।’ এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করে বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

নির্বাহী আদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান সিরাজ। তিনি বলেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে এর দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এ দেশের আপামর জনসাধারণ, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা সমস্ত দায়ভার মাননীয় সংসদ নেতা আপনার ঘাড়ে চাপাবে।’

প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে জি এম সিরাজ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বড় বড় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য। ছোট ব্যবসায়ী বা জনগণের জন্য নয়। মানুষের আয় বাড়েনি। মধ্যবিত্তরা মহাসংকটে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেটে দুর্নীতিবিরোধী কোনো পদক্ষেপের কথা বলেননি। সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরকে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মাস্টারমাইন্ড ও রিং লিডার বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

গত ১২ মাসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিরা ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা জমা রেখেছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন না মেনে সামান্য করের বিনিময়ে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে জি এম সিরাজ বলেন, এতে পাচারকারীরা অর্থনৈতিক সুরক্ষা পুরস্কার পাচ্ছেন।

জি এম সিরাজের বক্তব্যের জবাবে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যাদুর্গত এলাকায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফর মানুষের মনোবল বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা উৎসবও করব, মানুষের পাশেও দাঁড়াব।’

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যারা সমালোচনা, বিরোধিতা করেছে, সরকারকে বিব্রত করেছে, একটি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গ্লাভস, মাস্কের মতো করোনা সুরক্ষাসামগ্রীতে করারোপের প্রস্তাব করাা হয়েছে। এটি যেন প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া তিনি তামাকের ওপর কর বাড়ানো, পলিথিন নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেন।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার ব্যক্তি আয়করদাতা বাড়ানো, সম্পদ কর এবং করপোরেট কর উচ্চ হারে আদায় করা এবং আয়বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন