পাকিস্তান এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ধীরে ধীরে নরক হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর চলে অকথ্য অত্যাচার। অধিকাংশ সময়ই তা প্রকাশ্যে না এলেও মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় পাকিস্তানে উগ্র মৌলবাদীরা হিন্দুদের ওপর কী পরিমাণে অত্যাচার চালাচ্ছে। হিন্দুরা ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। পাকিস্তান একাত্তরে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়কে যেভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল, এখনো একইভাবে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সমন্বয়ে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পাকিস্তানে উগ্রবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক একের পর এক উপাসনালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
পরে সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে এক বিক্ষোভ মিছিলসহ পদযাত্রা করলে শাহবাগে পুলিশ তা আটকে দেয়। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আগামীকাল শনিবার পাকিস্তান দূতাবাসে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানে খ্রিষ্টান, শিখ, হিন্দু বা আহমদিয়াদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যে কী চরম দুর্দশা ও নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে একটি তীব্র সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। বাস্তব জীবন থেকে একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরে তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে সেখানে সংখ্যালঘু সমাজের নারী বা মেয়েশিশুরা ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদ সভাপতি সুমন কুমারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, হিন্দু পরিষদের আহ্বায়ক সুবীর কান্তি সাহা, হিন্দু পরিষদের সদস্য দীপঙ্কর শিকদার, উৎপল দাস, প্রীতি ভূষণ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধন কুমার দাস, অফিস সম্পাদক বাদল সাহা, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক জোটের শ্যামল ঘোষ, সঞ্জয় শীল প্রমুখ।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যের কারাক জেলায় এক মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন দেবতার মূর্তি রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছে। মন্দিরটিকেও ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গোটা পাকিস্তানের হিন্দুরা ক্ষুব্ধ হলেও ইমরান খানের প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সে এলাকার হিন্দুরা ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।
বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সদস্য দীপঙ্কর শিকদার বলেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সিন্ধু প্রদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের ওপর উগ্র মৌলবাদীরা ব্যাপক অত্যাচার চালায় এবং বাড়ি থেকে নারীদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। নাবালিকা ও যুবতীদের অপহরণের পর বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করে। এখানে প্রতিবাদ করা মানে খুন হয়ে যাওয়া। এ ঘটনা সম্পর্কে ইমরান খানের প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত হয়েও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এভাবেই ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়, তাদের মুক্তির পথ জানা নেই। এ ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান বিচার আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি, যা খুবই নিন্দনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে আইনজীবী সুমন কুমার বলেন, পাকিস্তানের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে থাকতে হয়। বাসস্থান, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়াসহ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বহু হিন্দু পরিবারই এখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে খ্রিষ্টান, শিখ, হিন্দু বা আহমদিয়াদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যে কী চরম দুর্দশা ও নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে একটি তীব্র সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। বাস্তব জীবন থেকে একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরে তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে সেখানে সংখ্যালঘু সমাজের নারী বা মেয়েশিশুরা ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পাকিস্তানে সংঘটিত সব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের পাকিস্তানের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সেই সুব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।