ফেইস শিল্ড বানিয়েছে চারুকলা-বিএসএমএমইউ

বিজ্ঞাপন
default-image

চীনে উৎপাদিত দুই লাখ মাস্ক যাচ্ছিল জার্মানিতে, জোর খাঁটিয়ে ওই চালান ব্যাংককে আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি একে ‘দস্যুতা’ বলে অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত কারোনা ভাইরাসে ব্যবহৃত ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন’ নামে একটি ওষুধ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধমকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দুনিয়ার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে করুন চেহারা পরিষ্কার হয়ে উঠছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা একটা সুখবর দিয়েছেন।

সুখবরটি হলো বাংলাদেশের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকেরা মিলে একটা ‘ফেইস শিল্ড’ তৈরি করেছেন যা করোনা চিকিৎসায় চিকিৎসকদের রক্ষার কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

‘ফেইস শিল্ড’ এর নকশা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ডিন অধ্যাপক নেসার হোসেন। তিনিই এর কাঁচামালও সরবরাহ করেছেন। নেসার হোসেনের কাছ থেকে ফেইস শিল্ড বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিএসএমএমইউ সাত তরুণ চিকিৎসক। এদের মধ্যে শিশু বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক আরিফ হোসেন, আবু ইউসুফ হোসেইন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মাছুদুর রহমান অন্যতম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে মাছুদুর রহমান বলেন, বিশ্বে গগলসের সংকট আছে। বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া ও সহ-উপাচার্য সাহানা আখতার রহমান চারুকলার ডিন নিসার হোসেনকে অনুরোধ করেন একটি নকশা তৈরি করে দিতে। তিনি নকশা তৈরি করে আমাদের কয়েকজনকে প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে সাড়ে তিন শ মতো ফেইস শিল্ড তৈরি করেছি। করোনা রোগীদের যারা চিকিৎসা দেবেন তাদের জন্য এই ফেইস শিল্ড কাজে দেবে। আমরা ৭০০ মত ফেইস শিল্ড তৈরি করতে চাই।

ফেইস শিল্ড প্রস্তুতকারী এ দলটির তত্ত্বাবধান করছেন বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) সাহানা আখতার রহমান।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও নার্সের নিরাপত্তার জন্য পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দেওয়া হচ্ছে; তার মধ্যে রয়েছে, সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক পোশাক, এন ৯৫ মাস্ক, গ্লাভস ও গগলস।

আইসিইউতে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের নিরপত্তার জন্য গগলসের বিকল্প হিসেবে ‘ফেইস শিল্ড’ ব্যবহার করা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নেসার হোসেন বলেন, চিকিৎসকেরা আমাদের জানাচ্ছিলেন ফেইস শিল্ড তৈরির নকশা করে দেওয়ার জন্য। আমরা ভিডিও দেখে একটা নকশা তৈরি করি। এরপর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ম্যাটরিয়াল নিয়ে আসি। এখন যেটি তৈরি করা হয়েছে সেটি সম্পন্নভাবে ওয়াটার প্রুফ বা পানিনিরোধক। এরপর আমরা কিছু তরুণ চিকিৎসককে এটি কীভাবে তৈরি করা যায় তার প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ওরা প্রতিদিন ১৫০ ফেইস শিল্ড তৈরি করছে।

অধ্যাপক নেসার হোসেন বলেন, আমরা একটা ডেন্টাল হাসপাতালকে কিছু ফেইস শিল্ড দিয়েছি। চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবেন তাদের প্রত্যেকের এটি প্রয়োজন হবে। কোন হাসপাতাল চাইলে তাদের তৈরি করতে আমরা প্রশিক্ষণ দেব, ম্যাটেরিয়াল কোথা থেকে আনতে হবে সেটিও দেখিয়ে দেব বলে প্রথম আলোকে নিসার হোসেন জানান।

এদিকে ফেইস শিল্ডের অকাল পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মুঠোফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ২০ লাখ ফেইস শিল্ড তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে হুট করে চাহিদা বেড়ে যাওয়া উৎপাদনকারী কোনো দেশই ফেইস শিল্ডই দিতে পারছে না। সে কারণে বাংলাদেশ চাইলে অন্য দেশ থেকে এটি আমদানি করে আনা বেশ খানিকটা জটিল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন