default-image

ফোন পেয়ে বাসা থেকে যাওয়ার সময় শুভ তাঁর মাকে বলেছিল—‘মা, ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি।’ একটু পরই তিনি তাঁর মাকে ফোন করে আর্তনাদমিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, ‘আম্মু আমি কমিউনিটি সেন্টারের গলিতে, আমাকে বাঁচাও।’ এর পরপরই স্বজনেরা সেখানে ছুটে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুভকে ধানমন্ডির বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখন স্বজনেরা সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুভর খালাতো ভাই বেলাল হোসেন আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর রায়েরবাজারের জাফরাবাদে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শুভ সরকার (২৬) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ জানায়, শুভ সপরিবারে ২১/১ জাফরাবাদে থাকতেন। গতকাল মুঠোফোনে তাঁকে জাফরাবাদ গলিতে ডেকে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

শুভর মরিয়ম নামের সাত মাসের এক মেয়ে আছে। তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তার। শুভর লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

বেলাল হোসেন বলেন, মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ শুভর মুঠোফোনের সূত্র ধরে দু-তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শুভ একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের মার্চে তিনি চাকরি হারান। তখন থেকেই শুভ বেকার। তাঁর বাবা গোলাপ সরকার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক।

ঘটনা তদন্তকারী মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র কুমার মণ্ডল আজ প্রথম আলোকে বলেন, শুভ মাদকসেবী ছিলেন। তাঁকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। শুভ যাদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন, তারাই তাঁকে খুন করেছে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন