বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা অবরোধকালে ‘হাফ পাস’ ব্যবস্থার দাবিতে নানান স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অবরোধ চলাকালে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রজাপতি পরিবহনের একটি বাসের চালকের সহকারীর (হেলপার) অর্ধেক ভাড়া দেওয়া নিয়ে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাসটির সামনের কাচ ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই বাসের চালকের সহকারীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড অবরোধ করে রাখেন। তবে ওষুধ কোম্পানির গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়। বেলা দুইটার দিকে পুলিশ ও মোহাম্মদপুর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুল হাসান বাসস্ট্যান্ডে যান। শিক্ষার্থীদের দাবি দুই দিনের মধ্যে মানার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন নাইমুল। এরপর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আগে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. অনিক। তিনি বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে ‘হাফ পাস’ কার্যকর না হলে আবারও মাঠে নামবেন তাঁরা।

এদিকে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড় এলাকায় বেলা পৌনে একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে কলেজের শিক্ষকেরা ও পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেন।

বারবার অবরোধ

ডিজেলের দাম এক লাফে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোয় ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাসভাড়া বেড়েছে ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর তাঁদের কাছ থাকে আগের মতো অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। অর্ধেক ভাড়া দিতে গেলে বাসের চালক ও সহকারীরা বাজে ব্যবহার করেন। বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এরই মধ্যে গত শনিবার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়ায় ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ‘ঠিকানা পরিবহনে’র বাসের চালক ও সহকারীকে গতকাল আটক করে র‌্যাব।
বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা গত রোববার বকশীবাজারে বিক্ষোভ করেন। তাতে যোগ দেন ঢাকা কলেজসহ আরও কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বাসভাড়া বাড়ানোর পর গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে অন্তত ছয়টি জায়গায় একাধিক দফায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। এতে যোগ দিয়েছেন অন্তত ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

মোহাম্মদপুরে গতকাল বিক্ষোভে যোগ দেওয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সাফিয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, অধে৴ক ভাড়া দিতে চাইলে বাসের শ্রমিকেরা খারাপ আচরণ করেন। অর্ধেক ভাড়া কারও দয়া নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার। এ অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা মাঠে থাকবেন।

অবশ্য বাসমালিকদের দাবি, যেহেতু ভাড়া ঠিক করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না, তাই তাঁদের পক্ষে অর্ধেক ভাড়া নেওয়া সম্ভব নয়। এতে লোকসান হয়।

অর্ধেক ভাড়া মন্ত্রীও ‘দিয়েছেন’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র হিসেবে তিনি নিজেও অর্ধেক ভাড়া দিয়েছেন। তিনি যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, তখন বাসগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিত। মন্ত্রী আরও বলেন, বাস কোম্পানি শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনা করতে পারে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাটি চালুর দাবি জানিয়ে গতকাল বিবৃতি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। এর আগে গত রোববার একই দাবিতে বিবৃতি দিয়েছিল গণফোরাম। একই দিন ছাত্র অধিকার পরিষদ এক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাসে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার দাবি জানায়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান বিবৃতিতে বাসভাড়া নিয়ে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে ধার্য করার দাবি জানিয়ে বলেন, যাঁরা বাসে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে নানা খাতে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখাচ্ছেন বাসমালিকেরা। এভাবে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধি যাত্রীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

সুরাহা নেই

শিক্ষার্থী ও বাসমালিকদের অনড় অবস্থানের মধ্যে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে। আজ মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাসমালিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে বলে কথা রয়েছে।

অবশ্য বাস সেবার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর কাছ থেকে বিষয়টি সুরাহার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য জানতে গতকাল সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্রকে ফোন করা হয়। যদিও তাঁরা ধরেননি।

রাস্তা আটকে থাকায় গতকাল দুর্ভোগে পড়া বেসরকারি চাকরিজীবী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি দেশের রাজধানীতে দিনের পর দিন সড়ক অবরোধ হবে, সরকার সুরাহার উদ্যোগ নেবে না, এটা কেমন কথা।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন