গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে শুক্রবার দেখা যায়, অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদে যাত্রীদের বেশি চাপ নেই। বেশির ভাগ পরিবহনের বাসের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে যাওয়ায় কাউন্টার থেকে অল্পসংখ্যক টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সেগুলোতেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন যাত্রীদের অনেকে।

একটি বই বাঁধাই কারখানায় চাকরি করেন কুড়িগ্রামের কবির হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, রংপুরগামী শ্যামলী পরিবহন তাঁর কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা চেয়েছে।

বাড়তি টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে আটটার আগেই তিনি বাস টার্মিনালে আসেন। এসে দেখেন, কুড়িগ্রামের হক পরিবহনের গাড়ি নেই। তারপর লোকাল বাসের খোঁজ করেন, কিন্তু পাননি। ১ হাজার ৩০০ টাকা চাওয়ায় তিনি আর শ্যামলী পরিবহনের টিকিট কেনেননি।

বেলা একটায়ও বাস টার্মিনালে বসে থাকতে দেখা যায় কবির হোসেনকে। তিনি বলেন, নামাজের পর দেখি একটু কম দামে টিকিট পাওয়া যায় কি না। না পাওয়া গেলে বেশি টাকা লাগলেও যাওয়া লাগবে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে শ্যামলী পরিবহনের রংপুরগামী বাসের বেশ কিছু টিকিট কাউন্টার রয়েছে। একটি কাউন্টারের মাস্টার মো. নাসির বলেন, ‘আমাদের রংপুরের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন কোনো টিকিটই বিক্রি করছি না।’

দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনালে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় তারা শ্যামলী পরিবহনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে।

ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে আজ সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেলফি পরিবহন ১৫০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে। প্রশাসনের সামনে তারা এ কাজ করছে। বাস কাউন্টার থেকে বলছে, সার্জেন্টকে তারা গাড়িপ্রতি এক হাজার টাকা ঘুষ দিচ্ছে। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দু-একটা ঘটনা হয়তো ঘটছে। আমাদের লোক সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছে। এ রকম কিছু হলে আমরা অবশ্যই দেখব।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন