জাহাঙ্গীর না কফিল, দ্বন্দ্বে বিএনপি

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন মোটামুটি চূড়ান্ত, কেবল ঘোষণার অপেক্ষা। তবে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী এখনো ঠিক হয়নি।

দলটির মনোনয়ন ঝুলে আছে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের দিন গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সমর্থকদের দুই পক্ষের মারপিটের ঘটনায়।

গত ১২ সেপ্টেম্বর চারটি উপনির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার হয়েছিল। ওই দিন ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এম কফিল উদ্দিন আহম্মদের সমর্থকদের মারধর করে রক্তাক্ত করেছিলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লোকজন। এই নিয়ে মুখোমুখি হয়ে পড়া দু’জনের মধ্যে এখনো বাদানুবাদ চলছে।

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তরে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এখন দলের নীতিনির্ধারকেরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন, মারপিটের ঘটনার উৎপত্তিটা কোথা থেকে। এর নিষ্পত্তি করে তারপর প্রার্থী ঘোষণা দিতে।

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ৬৫ জন। এর মধ্যে ৫৬ জন আওয়ামী লীগে, ৯ জন বিএনপিতে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এই আসনে প্রার্থিতা নিয়ে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারের সমর্থকেরা ধানমন্ডির সুধা সদনে বিক্ষোভ মিছিল করলেও তা বেশি দূর গড়ায়নি। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন অনেকটাই চূড়ান্ত। ৩১ আগস্ট মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের পর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানকে মাঠে কাজ করতে সুবজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে হাবিব হাসান এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, দলের নয়জন মনোনয়ন প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহম্মদ ও যুবদল ঢাকা উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এর মধ্যে প্রার্থিতা নিয়ে শুরু থেকেই গোছাল অবস্থানে ছিলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি সবাইকে চমকে নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির সাত সাংগঠনিক থানার সভাপতি-সম্পাদককে সঙ্গে করে মনোনয়ন ফরম কেনেন। আর ফরম জমা দেন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে।

অন্যদিকে কফিল উদ্দিন সমর্থন জোগান গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় দুই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ নির্বাচনী এলাকার আট কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর। যদিও এই আটজনের মধ্যে মাত্র একজনও কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারেননি। তবু ১২ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারের দিন এক মারপিটের ঘটনায় জাহাঙ্গীর দলের ভেতরে বিতর্কে পড়েন। ওই ঘটনায় কফিলের সাত-আটজন সমর্থক আহত হন। এখন নয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ছাড়া বাকি সাতজন এক হয়েছেন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। তাঁরা জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন।

এম কফিল উদ্দিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যিনি বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মারতে পারেন, তিনি কখনো বিএনপি করেন না। এ বিষয়ে আমরা সাত প্রার্থী একমত হয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অবশ্য জাহাঙ্গীর হোসেনও বসে নেই। তিনিও নির্বাচনী এলাকার সাত থানা উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত ও তুরাগ থানা বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের সভাপতি-সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত সুপারিশপত্র দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন। তাতে জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দিতে সুপারিশ করা হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এই পরিস্থিতিতে দলের নীতিনির্ধারকেরাও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন মনোনয়ন নিয়ে। মারপিটের ঘটনার পর জ্যেষ্ঠ নেতারাও ভেতরে-ভেতরে জাহাঙ্গীর ও কফিলে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে গেছেন। জাহাঙ্গীর, না কফিলকে তাঁরা প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবেন। কফিলকে প্রার্থী করলে মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিগড়ে যেতে পারেন। আবার জাহাঙ্গীরকে দিলেও বিরোধিতা আসতে পারে, কিছু মহল থেকে। এ অবস্থায় তৃতীয় কাউকেও বেছে নেওয়া যাচ্ছে না, কারণ অন্যদের এলাকায় সেই অবস্থান নেই। তবে এ বিষয়ে নীতি–নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা কথা বলতে চান না।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আলোচিত ব্যবসায়ী বাহাউদ্দিন সাদি। তবে দলে তাঁর কোনো পদ নেই। বিশেষ কোনো পরিচিতিও নেই।

দলীয় পরিচয় বলতে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি একই আসনে একাধিক ব্যক্তিকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার ‘কৌশল’ নিয়েছিল, সে সময় তিনিও প্রাথমিক মনোনয়নের একটি চিঠি পেয়েছিলেন। এটিই তাঁর একমাত্র পরিচয়।
কেন বিএনপির মনোনয়ন চান, জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন সাদি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে মনোনয়ন বোর্ডও আমাকে এ প্রশ্নটি করেছিল। আমি বলেছি, ১৯৯৫ সাল থেকে রাজনীতি করি। দলের যাঁরা জেলে যান, তাদের জন্য সাধ্যমতো কিছু করার চেষ্টা করি। ছাত্রদলের মামলাগুলোও দেখার চেষ্টা করি। এটাই আমার দলীয় পরিচয়।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকারের দিন এস এম জাহাঙ্গীরকে অপদস্থ করার পরিকল্পনা করছিল দলের ভেতরের একটি পক্ষ। এই খবর পেয়ে তিনি আগেভাগেই গুলশানের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো করেন। ঘটনার সূত্রপাত এখান থেকেই। যদিও মারপিটের ঘটনা তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। তবে তা কবে, সেটি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

মারপিটের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। দল তদন্ত করে নিশ্চয়ই জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। এখানে কে কার কর্মী সেটা বিষয় নয়, শেষ কথা হচ্ছে আমরা সবাই বিএনপি করি। সে দিন যা ঘটেছে এটা কাম্য ছিল না।'

আওয়ামী লীগের পাঁচজন সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), মো. ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) ও সাহারা খাতুনের (ঢাকা-১৮) মৃত্যুতে এসব আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি ঢাকা-৫ আসনে সালাহউদ্দিন আহম্মেদ, নওগাঁ-৬ আসনে রেজাউল ইসলাম ও পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিবকে মনোনয়ন দিয়েছে। ঝুলে আছে সিরাজগঞ্জ-১ ও ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন