বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের কম্পিউটার সামগ্রী

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সুবাদে প্রাত্যহিক জীবনযাপনে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ইলেকট্রনিক সামগ্রী। একসময় ক্রেতাদের চাহিদা ডেস্কটপ কম্পিউটার, পেনড্রাইভ এসবে সীমিত থাকলেও বর্তমানে সেখানে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক সব কম্পিউটার সামগ্রী। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে গড়ে উঠছে কম্পিউটার ও কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর অনেক বিশেষায়িত বিপণিবিতান। তবে এসব বিপণিবিতানের অধিকাংশ দোকানেই বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। হরহামেশাই ঠকছেন ক্রেতারা।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির হিসাবে, রাজধানীতে বড় আকারের কম্পিউটার বিপণিবিতান আছে ১১টি। এর বাইরে মাঝারি-ছোট মিলিয়ে প্রায় ২৫টির মতো বিপণিবিতানের বিভিন্ন তলায় গড়ে উঠেছে কম্পিউটার মার্কেট। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, নেটবুক, এলসিডি মনিটর, এলইডি মনিটর, স্মার্টফোনসহ এসবের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে এসব বিপণিবিতানে। নতুন সামগ্রী বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রাংশও কেনাবেচা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবসার বিপ্লব শুরু হয় ১৯৯১ সালের পর থেকে। তখনো হাতে গোনা কয়েকজন এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ধীরে ধীরে এ ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। কম্পিউটার ব্যবসার প্রসার এবং বিভিন্ন এলাকায় কম্পিউটার বিপণিবিতান গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।

এ বিষয়ে বিসিএসের মহাসচিব সুব্রত সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কম্পিউটার ও এর আনুষঙ্গিক সামগ্রীর বাজার বাড়ছে। মতিঝিল, উত্তরা, আগারগাঁও, সায়েন্স ল্যাবসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশেষায়িত কম্পিউটার মার্কেট। ছোট পরিসরে আরও বেশ কিছু মার্কেট আছে। বিসিএস উদ্যোগ নিয়ে এসব কম্পিউটার মার্কেট খুলে দেয়।

এসব কম্পিউটার মার্কেটে ভালো পণ্যের পাশাপাশি নিম্নমানের পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। অনেক পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা থাকে না। সামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ না থাকায় ক্রেতাদের নিম্ন মানের পণ্য গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের ওয়ারেন্টি থাকলেও সে সুবিধা পেতেও তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনটি মার্কেটের ছয়জন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর মার্কেটগুলোতে বিক্রি হওয়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও যন্ত্রাংশগুলোর অধিকাংশই চীন থেকে আনা। এসব যন্ত্রাংশের কোনটি আসল আর কোনটি নকল, তা চেনা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে সম্ভব নয়। সেই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল পণ্য ক্রেতাদের গছিয়ে দেন। আর এসব পণ্য বিক্রি করে লাভ বেশি হওয়ায় তাঁরাও এসব পণ্য বিক্রিতেই বেশি উৎসাহী। 

বিখ্যাত ব্র্যান্ডের পেনড্রাইভ কিনেও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল নাজমুল শুভকে। তিনি বলেন, ‘বেশ নামী দোকান থেকে নামকরা ব্র্যান্ডের পেনড্রাইভ কিনেছিলাম। ছয় মাস না যেতেই সমস্যা দেখা দেয়। ওয়ারেন্টি ছিল। কিন্তু দোকানে নেওয়ার পরে দোকানদার বদলে দিতে টালবাহানা করেন। অনেক দিন ঘুরিয়ে পরে বদলে দেন। ওই ব্র্যান্ডের সেবাকেন্দ্র থাকলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না।’ 

এ বিষয়ে সুব্রত সরকার বলেন, বাংলাদেশে যেসব আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ব্যবসা করছে, তাদের প্রতিটি বিক্রয়োত্তর সেবাকেন্দ্র খুলতে অনুরোধ করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে তাদের সেবাকেন্দ্র থাকলে ক্রেতাদের সেবা পেতে সুবিধা হবে।

কম্পিউটার প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় ক্রেতাদের কিছুদিন পরপরই যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হয় কিংবা নতুন কম্পিউটার কিনতে হয়। তাই নিয়মিত মার্কেটে যাতায়াত করতে হয় কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের। নামী ব্র্যান্ডের সামগ্রীতে এক থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। তবে মাউস, কি-বোর্ডের মতো যন্ত্রপাতিগুলোয় সাধারণত ওয়ারেন্টি দেওয়া হয় না।

রাজধানীর বহুল পরিচিত কম্পিউটার মার্কেট আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি। ১৯৯৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আইডিবি ভবনে চারতলা কম্পিউটার মার্কেটটি যাত্রা শুরু করে। দেড় শর বেশি খুচরা এবং পাইকারি দোকান আছে এখানে। ভেতরে চলাফেরার জন্য বেশ খোলামেলা জায়গা থাকায় ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই বিপণিবিতানে ল্যাপটপ, ক্যামেরা, নোটবুক, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ কম্পিউটারের প্রায় সব ধরনের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।

মিরপুর থেকে ল্যাপটপ সারাতে নিয়ে বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে এসেছেন মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কম্পিউটার সামগ্রী বাসার আশপাশের মার্কেট থেকে কেনার চেষ্টা করি। যাতে সমস্যা হলে নিয়ে আসতে সুবিধা হয়। এখন সব এলাকাতেই কম্পিউটার মার্কেট থাকায় বেশি দূর যেতে হয় না।’

 এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের ওপরের দিকে কয়েকটি তলা নিয়ে ইসিএস কম্পিউটার সিটি। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যমুনা ফিউচার পার্কের পঞ্চম তলায় রয়েছে কম্পিউটার মার্কেট। মিরপুর-১ নম্বরের ক্যাপিটাল মার্কেট, মিরপুর-১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেট, শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটও কম্পিউটার যন্ত্রাংশের জন্য বিখ্যাত।