বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত পৌনে দুইটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদক বিমানবন্দর এলাকায় থেকে প্রস্তুতির ব্যাপক ঘাটতির কথা জেনেছেন। গতকালও বিভিন্ন বিমান সংস্থার কর্মী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রীসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কথা জানা গেছে।

আমাদের বলা হলো, যাত্রী ছাড়া কারও ওপরে ওঠার অনুমতি নাকি নেই। আধা ঘণ্টা ধরে ঘুরলাম, কিন্তু কোথাও কোনো ট্রলি ফাঁকা পেলাম না।
দোহাগামী যাত্রী জাহিদুর রহমান

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। চেক–ইন কাউন্টারের সেবা ও যাত্রীদের মালামাল উড়োজাহাজে তোলা ও নামানোসহ যাত্রীসেবা এবং বিভিন্ন বিমান সংস্থার বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম এ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অধীন। কিন্তু বিমানের এ কাজের জন্য এমনিতেই পর্যাপ্ত জনবল নেই। এখন রাতের ফ্লাইট দিনে ও সন্ধ্যায় নিয়ে আসায় চাপ আরও বেড়েছে। কিন্তু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জনবল বাড়ানো হয়নি। উল্টো আগে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা (ওভারটাইম) কাজের জন্য ভাতা দিয়ে যে কাজ করানো হতো, বিমান কর্তৃপক্ষ সেটা এখন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে জনবলসংকট এবং এ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা আরও বেড়েছে। এ কারণে রাতের ফ্লাইট বন্ধের প্রথম দিনেই বেশ কয়েকটা ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এ কারণে রাত ১২টায় ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত কয়েক ঘণ্টা পর কার্যকর করতে হয়েছে।

default-image

উদাহরণ দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার কেবল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসেরই আটটি ফ্লাইটে ২ হাজার ৬৭ জন যাত্রী ছিল। তাঁদের টিকিট চেক–ইনসহ অন্যান্য সেবার জন্যও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী দিতে পারেননি বিমানের মহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিস)।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আট ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ রাখার কারণে সব এয়ারলাইনস ফ্লাইটসূচি পুনর্বিন্যাস করেছে। ফলে একসঙ্গে অনেক যাত্রী আসছে। এতে ইমিগ্রেশন বিভাগে যেমন চাপ বাড়ছে। চাপ পড়ছে চেক–ইন কাউন্টার, মালামাল আসার বেল্টে ও নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রেও। মালামাল নেওয়ার ট্রলি পেতেও যাত্রীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবার বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষা করে ফল পেতেও যাত্রীদের সময় লাগছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ২৭টি এয়ারলাইনসের ৮৫ থেকে ৯০টি ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে ওঠানামা করে। এসব ফ্লাইটে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১০ ডিসেম্বর ৪৯টি আগমনী ও ৫৬টি বহির্গমন ফ্লাইট চলেছে। শুক্রবারেও এমন চাপ ছিল ফ্লাইটের। আজ শনিবারও সব মিলিয়ে ৮৯টি ফ্লাইট আছে। প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধিসহ যথাযথ প্রস্তুতি নিতে না পারলে যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ১০ নভেম্বর বেবিচক এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের হাইস্পিড কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে, লাইটিং সেক্টরের নির্মাণকাজের জন্য ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১০ জুন পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের উড়োজাহাজের চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানায়। সে সময় বেবিচক জানিয়েছিল ফ্লাইটসূচি পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। রাতের ফ্লাইটগুলো সমন্বয় করে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে। এদিন বিকেলে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালের নিচতলায়, দোতলায়, কার পার্কিং ভবনের ভেতরে চারদিকে বিদেশগামী যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়। সন্ধ্যায় এ ভিড়টা আরও বাড়ে। যাত্রীরা এদিক–সেদিক ছোটাছুটি করছে। বেশি সমস্যা হচ্ছিল দুবাইগামী যাত্রীদের। কার পার্কিং ভবনের দোতলায় চলছে দুবাইগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নমুনা পরীক্ষা। সেখানেও ভিড়। সেখানে কথা হয় দুবাইগামী যাত্রী মো. রকিব মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো নির্দেশনার কথা লেখা নেই। দুপুর থেকেই কোথায় পরীক্ষা করব, কই যাব এসব খুঁজে পেতে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এই ওয়েটিং রুমে বসে আছি। নতুন এসি লাগানো হয়েছে। অথচ এসি চালু নেই।’

রাত সোয়া নয়টার দিকে আগমনী টার্মিনালে দেখা যায়, ট্রলি না পেয়ে নিয়ে হইচই করছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও টার্মিনালের ভেতরে ও বাইরে ট্রলি ফাঁকা পাচ্ছেন না যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার ফ্লাইটে দোহাগামী যাত্রী জাহিদুর রহমান জানান, টার্মিনালে প্রবেশের সময় তাঁর স্বজনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এরপর তিনি এক হাতে একটি ব্যাগ ও মাথায় আরেকটি ব্যাগ নিয়ে হেঁটে টার্মিনালের সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হলো, যাত্রী ছাড়া কারও ওপরে ওঠার অনুমতি নাকি নেই। আধা ঘণ্টা ধরে ঘুরলাম, কিন্তু কোথাও কোনো ট্রলি ফাঁকা পেলাম না।’

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান জানান, যাত্রীদের ট্রলিসেবা দিতে ট্রলি মেরামত করা হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ট্রলি মেরামতের জন্য এক সপ্তাহ আগে দেওয়া হয়েছে। কিছু ট্রলি কেনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বিমানবন্দরে অনেকগুলো ফ্লাইট একসঙ্গে ছিল। এতে যাত্রীদের সামাল দিতে বেগ পেতে হয়েছে। শুক্রবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। আজ শনিবার বিমানবন্দরের সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ফ্লাইট বিলম্ব না হয় বা যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।

আগে বলা হয়েছিল সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পিসিআর মেশিনে করোনা পরীক্ষা ও ইমিগ্রেশনে দেরি হচ্ছে। বুঝতেই পারছেন, যাত্রীর চাপ কেমন। আমরা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন