বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রার্থনায় আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ হবে। ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন, রাষ্ট্রের মূলনীতির প্রতি আস্থা রেখে দেশের জন্য যেন আমরা কাজ করতে পারি। এ দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি।’ তিনি বলেন, এই বিশ্ব যেন করোনাভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে। বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকতে পারে।

গির্জায় প্রবেশগীতি দিয়ে বড়দিনের প্রার্থনা শুরু হয়। এরপর ভক্তদের পাপ স্বীকার করান আর্চবিশপ। তিন ভাগে শাস্ত্র পাঠ করা হয়। যিশুর জীবনী নিয়ে লেখা মঙ্গল সমাচার পাঠ করেন আর্চবিশপ। পরে ভক্তদের উপদেশ দেন তিনি।
আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বলেন, ‘বড়দিন আমাদের বড় করার জন্য প্রতিবছর আসে। আমাদের হৃদয় যেন অনেক বড় হয়। অনেক উদার হতে পারি আমরা। আমরা যেন সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে যেতে পারি। আমরা যেন সবাইকে ভালোবাসতে পারি। বিশেষ করে হতদরিদ্র মানুষের কষ্ট যেন আমরা দেখতে পাই। তাদের জন্য যেন আমরা কিছু করতে পারি।’

উপাসনা শেষে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা নিজেদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সন্তান, স্ত্রীকে নিয়ে উপাসনা শেষে উইলিয়াম পিউরিফিকেশন বলেন, ‘খুবই ভালো সময় কাটছে। সকালে গির্জায় এসেছি। প্রার্থনা করলাম। এখন বাসায় যাব। আমাদের বাসায় প্রতিবেশীরা আসবেন, আমরা প্রতিবেশীদের বাসায় যাব। এ সপ্তাহজুড়ে বড়দিনের আমেজ থাকবে।’

শিশু ঐশ মার্ক বলে, ‘সান্তা ক্লজ বেশি ভালো লেগেছে।’

এক দিন ছুটি থাকায় গ্রামে পরিবারের কাছে না গিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকায় বড়দিন উদ্‌যাপন করছেন এসওএস ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের তিন শিক্ষার্থী—নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার বিপ্লব মর্মু, রিপন ট্রুডু ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার উজ্জ্বল রায়। মিরপুর-১৩ নম্বর থেকে তাঁরা তেজগাঁওয়ের এই গির্জায় প্রার্থনা করতে এসেছেন। প্রার্থনা শেষে গির্জা প্রাঙ্গণে তাঁরা গল্প করছিলেন। বিপ্লব মর্মু বলেন, ‘জীবনে প্রথম আমরা এখানে বড়দিনের প্রার্থনা করলাম। অনেক মানুষ এসেছে। খুব ভালো লাগছে।’

১ বছর ৭ মাস বয়সী সন্তান উৎসাহ দিওকে কোলে নিয়ে গল্প করছিলেন উত্তরী দিও। তাঁরা ১৪-১৫ জন একসঙ্গে প্রার্থনা করতে এসেছেন। সিলেটের কুলাউড়ার উত্তরী দিও বলেন, ‘ভালোই কাটছে বড়দিন। সকাল তো উপাসনায় কেটে গেল। বিকেলে বন্ধুবান্ধব মিলে ঘুরব।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন