মধুবাজার সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না
সড়কের বেশির ভাগ অংশই ভাঙাচোরা। দুপাশে কেউ কেউ নির্মাণসামগ্রী রেখেছেন। নিত্য যাতায়াতকারী মানুষেরা সড়কটিকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পশ্চিম ধানমন্ডির মধুবাজারের সড়কে ভোগান্তির শেষ নেই।
রায়েরবাজারের মুক্তি সিনেমা হলের সামনে থেকে মধুবাজার হয়ে সড়কটি ধানমন্ডি ১২/এ পর্যন্ত। খুব বেশি চওড়া নয়। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি সংযোগ সরু সড়ক রয়েছে। গতকাল রোববার গিয়ে দেখা যায়, রায়েরবাজার থেকে মধুবাজারের অংশে সড়কটির অবস্থা বেশি খারাপ। বিভিন্ন জায়গা ভাঙা, উঁচু-নিচু। সড়কের মধ্যে বড় বড় সিমেন্টের স্লাব বসানো।
সড়কটিতে রিকশা বেশি চলে। কিছু ব্যক্তিগত গাড়িও চলাচল করে। সোহরাব মিয়া ১০ বছর ধরে মধুবাজারে থাকেন। পেশায় ব্যবসায়ী সোহরাব বলেন, ‘এই রাস্তার কথা বইলা লাভ নাই। ঝাঁকি খাইতে খাইতে যাই-আসি। কেউ খোঁজও নেয় না। ভাগ্যের ওপর ছাইড়া দিছি।’
সড়কের দুপাশে কোথাও কোথাও নির্মাণকাজ চলছে। ইট-বালু সড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। যানগুলোকে পাশ কেটে চলতে হয়। দুপাশে বেশ কিছু ভাঙারির দোকান। কিছু কিছু দোকানের মালপত্রও সড়কের ওপর রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের ভ্যান থেকেও বিকিকিনি চলে।
রাহিমা সুলতানা ধানমন্ডির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। মধুবাজার হয়ে তাঁকে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘সুস্থ মানুষেরই শরীর ব্যথা হয়ে যায়। রোগী নিয়ে গেলে যে কী কষ্ট হয়!’ তিনি আরও বলেন, প্রতি বর্ষাতেই সড়ক খোঁড়ার কাজ হয়। তখন তাঁরা ভাবেন, সড়ক বুঝি ঠিক করা হবে। কিন্তু ঠিক হয় না। স্থানীয় আরও কয়েকজন বলেন, বর্ষায় এ সড়কে পানি ওঠে। তখন রিকশা উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
মধুবাজার মসজিদের সামনের সরু গলিটিতে একটি রিকশা ঢুকলে আরেকটি রিকশাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ গলির অবস্থা আরও বেশি খারাপ। গতকাল দেখা যায়, সিমেন্টের স্লাব সরিয়ে ময়লা তুলে সড়কেই ফেলে রাখা হয়েছে। রিকশাচালক নূরুদ্দীন বলেন, ‘মধুবাজারে আইলে খবর হইয়্যা যায়। রিকশাও ভালো থাহে না।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল পাঁচের অধীন মধুবাজার। অঞ্চল পাঁচের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অজিয়র রহমান এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। এ রাস্তার ব্যাপারে দেখে বলতে হবে।’