বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুরাদ হাসানের স্ত্রী জাহানারা এহসান ফোন করে অভিযোগ করেন, তাঁকে ও সন্তানদের মারধর, মানসিক নির্যাতন করা ছাড়াও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি বলেন, ‘মুরাদ হাসান কিছুদিন ধরে অকারণেই আমাকে ও সন্তানদের গালিগালাজ করছিলেন, চালাচ্ছিলেন মানসিক নির্যাতন। সেই সঙ্গে দিচ্ছিলেন হত্যার হুমকি।’

জাহানারা এহসান বলেন, ‘আগের মতোই আজ দুপুরে মুরাদ হাসান আমাদের গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে মারতে উদ্যত হন। এরপর আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাই।’

মুরাদ হাসানের স্ত্রীর ফোন করে সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনসার উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ তাঁদের ধানমন্ডির বাসায় যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসক জাহানারা স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পুলিশ গিয়ে মুরাদ হাসানকে ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে পায়নি। তাঁর স্ত্রী ও কিশোর বয়সী দুই সন্তান তখন ফ্ল্যাটে ছিলেন বলে জানান ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করে গত নভেম্বরের শেষ দিকে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন মুরাদ হাসান। তখন তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় তাঁকে নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফোনালাপের আরেকটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে একজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন, একই সঙ্গে তাঁকে হুমকিও দেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরপর ৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

দলীয় পদও কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর। ৯ ডিসেম্বর রাতে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মুরাদ। কিন্তু কানাডায় ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এরপর আর প্রকাশ্যে আসেননি তিনি।

এখন স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠার পর আবার আলোচনায় এলেন জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী উপজেলা) আসনের সাংসদ মুরাদ হাসান।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন