বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-৪–এর পরিচালক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, মেহেরপুরের গাংনী থানার কামন্দী গ্রামে মুদিদোকানি সাইফুল ইসলাম কয়েক বছর আগে মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসতেন। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার লোভে ধীরে ধীরে মানব পাচারকারী কোনো চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন তিনি।

মো. মোজাম্মেল হক আরও বলেন, রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অনুমোদনহীন তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি—টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ খোলেন সাইফুল। তাঁর লোকেরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার, শিক্ষিত নারী-পুরুষদের মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করান। পরে তাঁদের বাড্ডায় অনুমোদনহীন ট্রাভেল এজেন্সিতে এনে সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননে টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ আদায় করেন। এরপর সাইফুল বৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেটে তাঁদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাইফুলের লোকেরা পাসপোর্ট ও মুঠোফোন নিয়ে তাঁদের আরেক পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন। তাঁরা নারীদের বাসাবাড়িতে ও পুরুষদের পণ্য বিক্রির দোকানে কাজে দিয়ে দেন। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর পাচারের শিকার নারী–পুরুষেরা বাংলাদেশে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। অনেকেই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। ছয় বছর ধরে সাইফুল এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

র‍্যাবের পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, সাইফুলের মাধ্যমে জর্ডানে যাওয়া আসমা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সাত দিন ধরে যোগাযোগ নেই। এ পর্যন্ত ২৫ জন ভুক্তভোগী র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেছেন তাঁদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ নিয়েছেন সাইফুল।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন