বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নুরুজ্জামান প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। কামাল ও মিলনরা প্রায়ই জুনিয়র ছেলেপেলেদের পাঠিয়ে টাকা ছাড়া আমার দোকান থেকে মুরগি নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে গুলি করার হুমকি দেয়। আজ সন্ধ্যায় কামালের পক্ষ থেকে চারজন এসে আমার কাছে দুটি মুরগি চায়। আগের টাকা না পাওয়ায় আমি তা দিতে রাজি হইনি। তখন তারা আমাকে দোকান বন্ধ করতে বলে। কারণ জানতে চাইলে কিছু না বলে তারা আমার শার্টের কলার চেপে ধরে ও গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে আরও সাত-আটজন সেখানে আসে। মাছের দোকান থেকে বঁটি নিয়ে আমাকে কোপ দিতে তেড়ে আসে। পিস্তল দেখিয়ে আমাকে গুলি করার হুমকি দেয় তারা। দোকানের সামনে থাকা বালতি ও ড্রাম তারা লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। ক্যাশ ভেঙে তারা আমার সারা দিনে বেচাকেনার ১০-১২ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।’

‘আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে?’ এমন প্রশ্ন করে নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মামলা করব।’

ঘটনার কিছুক্ষণ পর পলাশী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকানিদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। দোকানিরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাজারের পাশেই ছাত্রলীগের এসএম হল শাখার ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী মারমুখী অবস্থায় অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এম এম কামাল উদ্দিন প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান মূলত গাঁজা বিক্রি করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘ওই দোকানি মুরগি বিক্রির আড়ালে গাঁজা বিক্রি করে থাকেন। খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর দোকানে গিয়েছিল, আমি যাইনি। ওই দোকানিকে খোঁজা হচ্ছে।’

ঘটনার পর রাত সোয়া আটটার দিকে নুরুজ্জামানসহ পলাশী বাজারের ২৫-৩০ জন দোকানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতাসংগ্রাম চত্বরে থাকা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খানের সঙ্গে দেখা করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। আল নাহিয়ান খান তাঁদের বিচারের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। নুরুজ্জামানের অভিযোগ, আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলে পলাশী বাজারে ফেরার পর এম এম কামাল উদ্দিনের অনুসারীরা সেখানে গিয়ে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। ভয়ে দোকান রেখেই তিনি সেখান থেকে সরে পড়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। এর সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন