বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে উপস্থিত একরামুল আহসান বলেন, তাঁর মা পীরের খুবই ভক্ত এবং দরবার শরিফেই থাকছেন দীর্ঘ সময় ধরে। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে জমি ভাগ করে দেওয়ার জন্য দলিল পীরের কাছে দেওয়া হয়। ৪০০ শতাংশ জমির ২০০ শতাংশই মায়ের নামে ছিল।

ভাগ না করে দিয়ে পীরের বিরুদ্ধে অনেক জায়গা উল্টো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ করেন একরামুল আহসান। এরপর পীরের অগোচরে মায়ের কাছ থেকে তাঁর সন্তানেরা একটি হেবা দলিল করেন বলে জানান তিনি। তখন থেকেই তাঁর নামে বিভিন্ন জায়গায় মামলা শুরু হয়। তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে দেশের ১৩টি কারাগারে জেল খেটেছেন সাড়ে আট বছর।

আরেক ভুক্তভোগী নাজমা আক্তার থাকেন আশুলিয়ায়। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী সোহরাব হোসেন ও সন্তান ফজলে হামিন সায়মনকে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন রাজারবাগ পীরের একজন মুরিদ। সোহরাবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোহরাব ও সায়মনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে হত্যা করার অভিযোগ এনে মামলা করেন মফিজুল ইসলাম নামের এক মুরিদ। মফিজুল হারিয়ে যাওয়া ছেলের দুলাভাই।

নাজমা বলেন, একজন গরিব মানুষের সন্তানকে দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে ‘মিথ্যা স্বীকারোক্তি’ নিয়ে তাঁর স্বামী-সন্তানকে জেলে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত নাজমার স্বামীর বিরুদ্ধে পাঁচটি, ছেলের বিরুদ্ধে চারটি, দুই দেবরের নামে পাঁচটি আর ভাতিজার নামে একটি মামলা হয়েছে।

নাজমা আরও বলেন, দরবার শরিফ থেকে এসে ভিকটিমের দুলাভাই কেন মামলা করবেন? তিনি বলেছেন, জমি লিখে দিলে একটা সমঝোতায় আসবেন।

যে ছেলেটিকে ফজলে হামিন সায়মনের মামলার সাক্ষী করা হয়েছে, তাঁর মা নার্গিস বেগমও এসেছিলেন মানববন্ধনে। দরিদ্র এ নারী বলেন, তাঁর সন্তান থাকতেন আশুলিয়ায়। তাঁরা থাকেন খুলনায়। সন্তান গ্রামে গেলে পুলিশ তাঁদের তুলে নিয়ে সারা রাত গাড়িতে করে ঘোরায় এবং জোরপূর্বক সন্তানের স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় বলে দাবি নার্গিস বেগমের। একপর্যায়ে নার্গিসকেও স্বামীসহ আসামি করা হয়। তাঁরা ছাড়া পেলেও তাঁর সন্তান এখনো জেলে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন