বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে সাম্প্রদায়িক হামলা ও ধর্মীয় উন্মাদনার তদন্তে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’ গঠিত হয়। সম্প্রতি তারা ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে।

তালিকা জমা দেওয়ার পর দুদক কার্যালয়ের সামনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ৯ মাস তদন্ত করেছি। কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিয়েছি। ধর্মীয় ব্যবসায়ী, হেফাজত, জামায়াত মানি লন্ডারিং করেছে, এ ধরনের তথ্য-প্রমাণও পেয়েছি। যার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকেও শ্বেতপত্রটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওয়াজের নামে ব্যবসায় করা অর্ধশতাধিক ব্যক্তির দুর্নীতির খোঁজ শুরু করেছে দুদক। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, “তিনি এগুলো দেখবেন”।’

গণকমিশনের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক হাজার মাদ্রাসার তথ্য-উপাত্তের ওপর তদন্ত করে এই এক শ’ ধর্ম ব্যবসায়ীর তালিকা করা হয়েছে। তাঁরা মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য অপরাধ করেছেন। তাঁদের অর্থনৈতিক জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’

উসকানিদাতা সরকারি কর্মকর্তাদেরও বিচার দাবি

সাম্প্রদায়িক হামলা ও উসকানির সঙ্গে সরকারি বেশ কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে মৌলবাদী ও সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন। এ বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেসব ডিসি, ইউএনও ও পুলিশ কর্মকর্তা মৌলবাদী হামলাকারীদের উসকানি দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের নাম শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জের কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও কিছু কিছু পুলিশ সদস্যকে এরই মধ্যে সরানো হয়েছে। তবে তাঁদের বিষয়ে এই ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

প্রতিনিধিদলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গণকমিশনের সমন্বয়ক কাজী মুকুল, আসিফ মুনির তন্ময়, নাহিদা চৌধুরী, সদস্য শহীদসন্তান আসিফ মুনীর ও নাদিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন