বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিপিডির নিবন্ধে বলা হয়, জ্বালানি তেল একটি কৌশলগত পণ্য। অর্থনীতির নানা খাতে এর সরাসরি প্রভাব আছে। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানো যৌক্তিক হয়নি। শুল্ক প্রত্যাহার করে বা ভর্তুকি দিয়ে বিপিসির ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে। অর্থনীতির জন্য বোঝা তৈরি হলে বিভিন্ন দেশের সরকার এটি করে থাকে। আগামী বছর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে এলে দেশে সঙ্গে সঙ্গে দাম না কমিয়ে বিপিসি এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারত।

সিপিডির সুপারিশে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হয়। তাই দেশেও মূল্য সমন্বয়ের প্রক্রিয়া ঠিক করা দরকার। এর সঙ্গে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) যুক্ত করা দরকার।
নিবন্ধ পাঠের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিডির গবেষকেরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুনাফার টাকা বিপিসির হাতে থাকলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। উদ্ধৃত অর্থ সরকার নিয়ে যাওয়ায় বিপিসি সক্ষমতা হারিয়েছে। আবার তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অযৌক্তিকভাবে বেশি হারে পরিবহনভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব ছিল।

সিপিডির নিবন্ধ বলছে, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লঞ্চে ভাড়া বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে। কৃষি উৎপাদনেও খরচ বেড়ে যাবে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। করোনার প্রভাবে মানুষের আয় কমেছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের চড়া দামের কারণে আগে থেকেই ভোক্তারা চাপে আছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। সরকারিভাবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির যে তথ্য দেওয়া হয়, তা বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই। সব মিলে সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের জ্বালানি তেলের সঙ্গে তুলনা করে সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে সিপিডির কাছে জানতে চাইলে সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রাজনৈতিকভাবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত। দেশে বিদ্যমান সরকার নিয়ন্ত্রিত মূল্য কাঠামোর সঙ্গে হঠাৎ অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য কাঠামোর দিকে যাওয়ার দরকার আছে, তবে করোনা মহামারির এ মুহূর্তে নয়।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশে বাড়ানো হয়েছে, সরকারের এ ব্যাখ্যা নিয়ে সিপিডির অবস্থান জানতে চাইলে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, অন্য দেশে যখন দাম কম ছিল, দেশে তখন কমানো হয়নি কেন? করোনার মধ্যেও জনগণের কাছ থেকে সরকার জ্বালানি তেলে বাড়তি টাকা নিয়েছে। সেই টাকায় এখন ঘাটতি পূরণ করার কথা। কিন্তু সরকার জনগণের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। সামাজিক ন্যায়বিচারের দিক থেকে সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিপিডির নিবন্ধ বলছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়মিত ওঠানামা করে। ২০১৬ সালে প্রতি ব্যারেল ৪২ ডলার হওয়ার পর দেশে ডিজেলের দাম কমিয়ে ৬৫ টাকা করা হয়। এরপর করোনার প্রভাবে গত বছর ২৩ ডলারে দাম নেমে এলেও দেশে কমানো হয়নি। এ বছর ৮৩ ডলারে পৌঁছালে দেশে একলাফে ১৫ টাকা বাড়ানো হয় প্রতি লিটারে। অথচ গত ৭ বছরে বিপিসি মুনাফা করেছে ৪৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বিপিসি লোকসান করেছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সব মিলেও লাভে আছে বিপিসি।

সিপিডি বলছে, জ্বালানি তেলে ৩৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও লভ্যাংশ মিলে প্রতিবছর বিপুল টাকা জমা হচ্ছে সরকারি কোষাগারে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। এর আগের অর্থবছরে এটি ছিল ৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন