আগামী রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ছুটি। আগামীকাল শুক্রবার ও পরদিন শনিবার সরকারি অফিসগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি। ঈদের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে যাওয়ায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ির উদ্দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
আজ দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, ন্যাশনাল পরিবহন, হানিফ পরিবহনসহ উত্তরাঞ্চলের বাসগুলোর টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। যাত্রার আগে কোনো কোনো বাসে দু-একটি আসন ফাঁকা থাকলে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে কিছুটা বাড়তি দামে।

এদিকে কাউন্টার ছাড়া কিছু বাস উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছে। সেগুলোতে টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে। এমন পরিস্থিতিতে অগ্রিম টিকিট না কাটায় উত্তরাঞ্চলের অনেক যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের বাসের টিকিটের তেমন সংকট দেখা যায়নি।

বাস কাউন্টারের কর্মীরা বলছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে যেতে পারেন। অনেকেই একটি বাসে নদীর ঘাট পর্যন্ত যান। লঞ্চ বা ফেরিতে নদী পার হয়ে আরেকটি গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছান। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অগ্রিম টিকিট তুলনামূলক কম বিক্রি হয়। তবে উত্তরাঞ্চলে এভাবে ভেঙে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে এ অঞ্চলের অগ্রিম টিকিট সব বিক্রি হয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি পরিবহনে খোঁজ করেও টিকিট পাননি সরকারি কর্মচারী মীর সাকিব। অগ্রিম টিকিট কাটেননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছুটি যে পাব, এটা নিশ্চিত ছিলাম না। গতকাল নিশ্চিত হয়েছি। তাই অগ্রিম টিকিট কাটা হয়নি। এখন তো বাসের টিকিট পাচ্ছি না।’

একই সংকটে পড়েছিলেন মো. জিকুর আলী নামের অপর এক ব্যক্তি। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও রাজশাহীগামী কোনো বাসের টিকিট পাননি তিনি। তবে আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একটি টিকিট জোগাড় করতে পারেন।

বগুড়া-নাওগাঁ-মহাদেবপুর-নজিপুর-সাপাহার-ধামুরহাট-মাতাজি-বদলগাছীগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসগুলোর সব আসনের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। এই কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২ মার্চ পর্যন্ত আমাদের সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি করা। আমাদের যে দু-একটা বাড়তি গাড়ি আছে, সেগুলো এলে এখন টিকিট বিক্রি করি। এ ছাড়া কোনো কোনো গাড়িতে দু-একটা সিট ফাঁকা থাকে। গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় সেগুলোও বিক্রি করছি।’
হানিফ এন্টারপ্রাইজেরই বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভান্ডারিয়া-কাউখালী-কাঁঠালিয়া-আমুয়াগামী পরিবহনে কিছু সিট ফাঁকা ছিল। এই কাউন্টারের কর্মকর্তা মো. রানা বলেন, ‘আমরাও টিকিট অগ্রিম বিক্রি করেছি। তবে এখনো আমাদের কিছু টিকিট রয়ে গেছে।’

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলগামী কয়েকটি পরিবহন অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেনি। দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল-বরগুনা-কুয়াকাটা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটাগামী পরিবহন যমুনা লাইন সেগুলোর একটি।

এই পরিবহনের কাউন্টারের কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো পরিবহন। অগ্রিম টিকিট বিক্রি করিনি। অগ্রিম টিকিট বিক্রির কিছু সমস্যা আছে। অনেক সময় ফেরিতে যাতায়াত করতে গিয়ে ১ ঘণ্টার জায়গায় ১০ ঘণ্টা লেগে যায়। অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা তখন নানা কথা বলেন। তাই গাড়ি এলে আমরা সেটার টিকিট বিক্রি করি।’

এরই মধ্যে কোনো কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি রাখার অভিযোগ উঠেছে। গাবতলী থেকে মেহেরপুর যাবেন মো. রিয়াজ নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে তাঁর কাছ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন, ‘মেহেরপুরের বাসভাড়া ৫০০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে তা করা হয়েছে ৭০০ টাকা। ঈদ বকশিশ হিসেবে কেউ ৫০-১০০ টাকা দিলে সেটা নিই। না দিলে নিই না।’

গাবতলী বাস টার্মিনালে দায়িত্বরত বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাউন্টার নেই এমন কিছু বাস যাত্রী পরিবহন করছে, এ তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব।’

ভাড়া বাড়তি রাখার অভিযোগ নিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কিছু অভিযোগ পেয়েছিলাম। তবে তদন্তে তার সত্যতা মেলেনি। গতকাল ও গত পরশু বাড়তি ভাড়া রাখায় কয়েকটি কাউন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে। সব কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানাতে বলা হয়েছে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন