মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে মেয়েটা বলছে, গরুর মাংস খাবে। ও ক্লাস এইটে পড়ে। রিকশা চালিয়ে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে সারা দিনের কামাই শেষ। প্রত্যেক দিন কামাই দিয়ে তেল, চাল কিনতে হয়।’

বাজারে গরুর মাংস কিনতে প্রায় ৭০০ টাকা লেগে যায় বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন আলমগীর। তিনি বলেন, রিকশা চালিয়ে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করে প্রতিদিন মাছ, মাংস কেনা সম্ভব নয়। গত ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়েছে, গরুর মাংস কেনা হয়নি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গাড়িতে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে দেখে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

আলমগীর বলেন, ‘এখন নিতে পারব না। কালকে আসব। পোলাপান স্কুলে পড়ে। বাবা হিসেবে ছেলেমেয়েকে কিছু খাওয়াইতে মন চায়। কিন্তু সামর্থ্য হয় না। এখানে কিছুটা কম দামে বেচতে দেখে আশা পাইলাম।’

সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে আজ ১২৫ কেজি গরুর মাংস, প্রায় এক কেজি ওজনের ৫০টি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, ১২ কেজি খাসির মাংস, ১ হাজার ৬০০টি ডিম ও ১৫০ লিটার পাস্তুরিত গরুর দুধ বিক্রি হয়।

ক্রেতাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা বেশি দেখা গেছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে বিক্রি শুরু হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকেই গরুর মাংস শেষ হয়ে যায়। প্রতিজনের কাছে এক কেজি করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে। বিকেল তিনটায় সব পণ্য বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন এসে গরুর মাংস খুঁজেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২৯০ জন ক্রেতা পণ্য ক্রয় করেছেন।

তবে বিপত্তি বাধে খাসির মাংস নিয়ে। গরুর মাংসের পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে শেষ হয় ডিম ও মুরগি। তখনো দুই কেজি খাসির মাংস ও কয়েক প্যাকেট দুধ বিক্রি বাকি ছিল। আরও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় খাসির মাংস বিক্রি করতে। যদিও এর আগেই দুধ বিক্রি হয়ে যায়। বেলা সোয়া দুইটার দিকে এক কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়। পরে ক্রেতা না পেয়ে খামারবাড়ি মোড়ে এসে বাকি এক কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয় বিকেল তিনটার দিকে।

বিক্রেতা ফাহাদ সাকিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘অফিসে খাসির মাংসের চাহিদা আজকে একটু কম। অন্য দিনগুলোতে আগে খাসি শেষ হয়ে যায়।’
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে পণ্য কিনতে আসা ব্যক্তিরা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের। তাঁদের মধ্যে আজ দুজন রিকশাচালককে গাড়ির কাছে আসতে দেখা গেছে।

default-image

রিকশাচালক মো. আলমগীর গরুর মাংস কিনতে না পারলেও, দুধ–ডিম কিনেছেন অপর রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম। তিন লিটার দুধ ও এক ডজন ডিম কিনেছেন তিনি। দুধের প্যাকেটগুলো রেখেছেন রিকশার আসনের নিচে। আর ডিমগুলো হাতে ঝুলিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকা উদ্যানের বাসায় রেখে আসতে।

প্রতি লিটার দুধে ১০ টাকা করে ছাড় ও ডিমে ডজনে ২০ টাকার মতো ছাড়। সব মিলিয়ে বাজারের তুলনায় ৫০ টাকা কমে দুধ–ডিম কিনেছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোজার মধ্যে বেশি খাইতে হয়। ছাড় দেখে বেশি করে কিনলাম। দেড় বছরের বাচ্চার জন্য বেশি দুধ কিনতে হয়। অন্য সময় দামের কারণে কিনতে পারি না।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন