বিজ্ঞাপন

স্মরণসভায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিষ্ঠাতা রেহমান সোবহান বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আমার চেয়েও ভালো অর্থনীতিবিদ ছিলেন। বাংলায় তাঁর ভালো দক্ষতা ছিল। সেই গুণ তিনি খুব ভালোভাবে ব্যবহার করেছিলেন।’ তিনি বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিস্ট হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আইবিএ প্রতিষ্ঠায় তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। অনেক শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি এখন পরামর্শক হিসেবে বাইরে কাজ করেন। কিন্তু মোজাফফর তা করতেন না। পাঠদানেই নিবেদিত ছিলেন তিনি।

default-image

রেহমান সোবহান বলেন, করোনাকালে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত এবং সুশাসন খাতে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের এখন প্রয়োজন ছিল। তাঁর স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে আগ্রহ ছিল। অর্থনীতিবিদ হিসেবে মেডিকেল, অর্থনীতি ও সুশাসন—এই তিন ক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্ব দিতে পারতেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, শিক্ষক, গবেষক ছাড়াও নাগরিক সমাজের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অধ্যাপক মোজাফফরের অবদান আছে। অত্যন্ত পরিশ্রমী এই মানুষটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই ব্যক্তি হিসেবে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, সেটি তুলে ধরতে একা হলেও প্রতিবাদ করতেন।

default-image

সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে নৈতিক অবস্থানে থেকে সত্য বলার মতো লোকের অভাব এখন। বাংলাদেশে এখন নৈতিক অবস্থানে থেকে, ডানে-বাঁয়ে না তাকিয়ে সম্পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে সত্যকে সত্য বলার মতো মানুষের বড় অভাব। মোজাফফর আহমদ দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে ছিলেন না, তবে তাঁর পাণ্ডিত্য, ভাষার জোর ছিল, তিনি নৈতিকতার ওপর সব সময় জোর দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের জোর নৈতিকতার জোর। সেই জোরটি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ দিয়ে গেছেন। অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, এটি নিয়ে মোজাফফর আহমদ বিশেষ গবেষণা করেছেন। উৎপাদনশীল ক্ষেত্র থেকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জনগণকে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি চিন্তা করেছেন। দেশে বাংলা ভাষায় অর্থনীতিচর্চা খুব সুন্দরভাবে সূত্রপাতে অবদান আছে মোজাফফর আহমদের।

default-image

আলোচনা সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে জনগণের ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অনেকগুলো অধিকার থাকে। এগুলোকে সমুন্নত করতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়। দুর্ভাগ্য যে এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর করুণ অবস্থা। তিনি বলেন, এ অবস্থায় নাগরিক সমাজ হচ্ছে পাহারাদারদের পাহারাদার। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ছিলেন নাগরিক সমাজের কণ্ঠ, অবিসংবাদী নেতা। তিনি মানুষের স্বার্থের কথা ভাবতেন, সোচ্চার ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতি অনেক ক্ষতি হয়েছে।

বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আজীবনই তাঁর কর্মস্থল প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। কোনো ক্ষেত্রেই কমতি ছিল না। ভালো মানুষ হলে তার কোনো চিন্তা থাকে না। তাঁর লেখাগুলো বাংলা করে সবার জন্য পাঠযোগ্য করা হলে তা জাতির জন্য পথের দিশা হবে।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘নাগরিকদের সামষ্টিকভাবে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের চিন্তাধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। শাসনব্যবস্থায় নানা রকম দুর্দশার মধ্য দিয়ে আমরা। যাঁরা ক্রিটিক্যাল চিন্তা করেন, সমালোচনা করতে পারেন, তাঁরা সামষ্টিকভাবে একত্র হতে পারছেন না।’

সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো লোক আজও প্রয়োজন। তিনি খাঁটি ভদ্রলোক ছিলেন। পারিবারিক জীবন, শিক্ষক বা প্রশাসক হিসেবে যত বড় পদেই তিনি গিয়েছেন, তিনি সব সময়ই তিনি সত্য বলতেন।
রাজনীতিক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু যুক্তই ছিলেন না, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়েছিলেন। তাঁর মতো মানুষের অভাব এখন দেশে। দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত। যাঁরা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, তাঁদেরও হারাতে হচ্ছে।

default-image

সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আইবিএর গড়ে তুলেছিলেন। এ প্রতিষ্ঠানটির মান দেশের উচ্চশিক্ষায় বিরল। এমন প্রতিষ্ঠান আরও দরকার। মতের, কাজের পদ্ধতির সঙ্গে সবাই একমত না হলেও তিনি দেশে বসেই কাজ করেছেন।

সুজন সদস্য অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের সরাসরি ছাত্র ছিলাম আমি। তিনি ডেডিকেটেডলি পড়াতেন, পাশাপাশি নিজের প্রস্তুতি ছিল প্রতি ক্লাসেই। গবেষণা কাজের প্রতি অনুরাগীদের তিনি মর্যাদা দিতেন, মেধার চেয়ে। শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর বহু গবেষণা আছে।’

সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ নাসের বখতিয়ার বলেন, কৃতিমান এই অর্থনীতিবিদ পরিবেশবিদ ছিলেন, সুজনের প্রথম সভাপতি তিনি।

সভায় সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন