অধ্যাপক কাবেরী গায়েন স্মারক বক্তৃতায় বলেন, আজ এনজিও নারীবাদ প্রকৃতপক্ষে নারীবাদের সার্বক্ষণিক লড়াইকে বিদেশি দাতাদের দেওয়া মৌসুমি অ্যাজেন্ডায় পরিণত করেছে। তখন ১৪ বছর বয়স থেকে নারীর জন্য লিখে যাওয়া ও রাজপথে হেঁটে যাওয়া সুফিয়া কামালের লেখা এবং কাজ আজও ভরসার আলোকবর্তিকা।

কবি সুফিয়া কামাল নিজেকে কখনো নারীবাদী দাবি করেননি—উল্লেখ করে কাবেরী গায়েন বলেন, তাঁর মধ্যে একজন মাতৃরূপ প্রজ্বলিত রেখেছেন। নারীবাদীদের আশ্রয়স্থল ছিলেন তিনি। তিনি জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে (সরকারি রাজনীতির সঙ্গে নয়) নারী আন্দোলনের এক মেলবন্ধন ঘটাতে পেরেছেন, যা আজকের দিনের নারীবাদ চর্চাকারীদের মধ্যে অনুপস্থিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, নারীর মুক্তিকে মানবমুক্তি হিসেবে দেখার যে মন্ত্র বেগম রোকেয়া ছড়িয়েছিলেন, সেই মন্ত্রে ও কাজে দীক্ষিত ছিলেন সুফিয়া কামাল। তাঁকে কেন্দ্র করেই রোকেয়া-পরবর্তী বাংলাদেশের নারী আন্দোলন অগ্রসর হতে থাকে। ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ গঠিত হওয়ার পরে এ দেশের নতুন নারীদের আন্দোলন-সংগ্রামের মশাল বাহক হয়ে ওঠেন সুফিয়া কামাল।

স্মারক বক্তৃতার শুরুতে কবি সুফিয়া কামালের জীবন ও কর্মের ওপর প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এ সময় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী বুলবুল ইসলাম ও সুস্মিতা আহমেদ। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ানকে কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, শত বছর আগে কবি সুফিয়া কামাল রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নারীমুক্তির আন্দোলন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সৃষ্টিশীল উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বিভিন্ন আন্দোলনের বাতিঘর। আজও তিনি যেকোনো আন্দোলনে একইভাবে গতি আনতে পারেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন