বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুরমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সীমিত যে আয়, তা দিয়ে বাজার থেকে ভালো-মন্দ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। তাই চেয়েছিলাম কিছু মাংস কিনে ফ্রিজে রাখতে। পরে তা ভাগ করে কয়েক দিন খেতে। দুইটা পর্যন্ত কলেজ খোলা থাকায় আগে আসা সম্ভব হয়নি। গাড়ির ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছি, আগামীকাল আবার সংগ্রহ করার চেষ্টা করব।

সুরমা আক্তার বলেন, ভ্রাম্যমাণ গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অন্তত লক্ষ্মীবাজার অংশে একটি গাড়ি এলে, সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানা অংশের অনেক মানুষ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাজধানীতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। রাজধানীর ১০টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। স্থানগুলো হলো সচিবালয়সংলগ্ন আবদুল গণি রোড, খামারবাড়ি গোলচত্বর, মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার, মিরপুরের কালশী, যাত্রাবাড়ী ও জাপান গার্ডেন সিটি।

নয়া বাজার এলাকায় দেখা যায়, গাড়িটি উল্লিখিত স্থানে না দাঁড়িয়ে কিছুটা সামনে তাঁতীবাজার মোড়ে মালিটোলা পার্কের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ৯টায় গিয়ে গাড়িটি খুঁজে পেতে প্রতিবেদকের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি না থাকায় পণ্য কিনতে আসা অনেককেই ফিরে যেতে হয়। অনেকে আবার গাড়ির দেখা পেলেও সুরমা আক্তারের মতো পণ্য না পেয়ে ফিরে যান।

নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়াতে না পারার কারণ হিসেবে নয়াবাজারে ভ্রাম্যমাণ গাড়িটির ক্যাশিয়ার আবু শাহেদ বলেন, ‘প্রধান সড়কের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ না থাকায় পার্কের পাশে আসতে হয়েছে। এখানে নিরিবিলি ও ফাঁকা থাকায় মানুষের সুবিধা হবে। এখন থেকে আমরা এখানে গাড়ি দাঁড় করাব।’

আবু সায়ীদ বলেন, রমজানে দ্বিতীয় দিনে গরুর মাংস ৫০ কেজি, মুরগির ড্রেসিং মাংস ২৫ কেজি, খাসির মাংস ৪ কেজি, ১ কেজি প্যাকেট ২০০ কেজি দুধ এবং ১ হাজার ২০০ ডিম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি বেলা ১১টায় এসেছে। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন মাংস কেনার সুযোগ পেয়েছেন। বাকিরা দুধ ও ডিম কিনেছিলেন। তিনি বলেন, পণ্য কম থাকায় একদিন গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে। এখানে মানুষের মাংস কেনার চাহিদা বেশি আছে। অন্তত আরও ১০ কেজি মাংস বাড়িয়ে দিলে আপাতত কেউ খালি হাতে ফেরত যাবে না।

এই স্থানটিতে পণ্য কিনতে আসা অধিকাংশই ছিলেন মধ্যবিত্ত। চলতি পথে গাড়ি দেখে যাদের কাছে টাকা ছিল তাঁরাই সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন মাংস। আর যাঁরা লোকমুখে শুনে গাড়ির অবস্থান জেনে এসেছিলেন। তাঁরা পৌঁছানোর আগেই মাংস ফুরিয়ে গিয়েছিল। ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে অনেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন।

কাজ শেষে ফিরছিলেন আসাদুজ্জামান জাদু। তিনি পাটুয়াটুলীতে ইলেকট্রনিক মালামালের একটি দোকানে কাজ করেন। দোকানের কাজে গুলিস্তান যাওয়ার পথে গাড়ি দেখে ভেবেছিলেন কাজ শেষে আসার পথে মাংস কিনবেন। কিন্তু এক ঘণ্টা পরে ফিরে এসে দেখেন মাংস শেষ। পরে তিনি দুই প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, দাম অনেকটাই সাশ্রয়ী। তাই অনেকের আগ্রহ। পণ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রতিদিন যদি গাড়িটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে এসে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। তবে সবাই সেই সময়ের মধ্যে পণ্য সংগ্রহ করে নিতে পারবে।

গরুর মাংস না পেলেও খাসির মাংস সংগ্রহ করেছিলেন গৃহিণী রিয়া আক্তার। তাঁর পরিবারের সদস্যসংখ্যা পাঁচজন। স্বামী-সন্তান নিয়ে শাঁখারীবাজারের পাশে থাকেন।
রিয়া আক্তার বলেন, ‘অন্য জায়গা থেকে এখানে দাম অনেকটা কম। তাই ভেবেছিলাম কয়েক কেজি গরুর মাংস কিনব। তবে গরুর মাংস না থাকায় ১ কেজি খাসির মাংস পাওয়া গেছে। সঙ্গে বাইরে থেকে কম দামে দুধ ও ডিম সংগ্রহ করেছি। গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে পরে আবার সংগ্রহ করার চেষ্টা করব।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন