কোরবানির বাকি এক দিন। কামারশালায় এখন রাজ্যের ব্যস্ততা। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা ব্যস্ততা যাচ্ছে তাদের, বিক্রিও ভালো। নগরীর টাউন হল বাজার, মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেল, কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছোট ছুরি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, একটু বড় ছুরি ২০০ থেকে ২৫০, পশু জবাইয়ের ছুরির দাম শুরু ৩৫০ থেকে শুরু করে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বঁটির দাম ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ওজনের পর আকারের ওপর ভিত্তি করে চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এসব অস্ত্রের দাম অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। কারণ, বাজারে লোহার দাম বাড়তি। খোঁজ রাখেন এ রকম ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের কারণেই দেশে চাপাতির দাম বেশি!

মোহাম্মদপুরের এক কামারশালায় কথা হয় চাকু বিক্রেতা পাণ্ডব ব্যাপারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সবাই যে নতুন অস্ত্র কিনছেন, তা নয়। কেউ কেউ পুরোনোগুলোও ধার দিয়ে নিচ্ছেন। ধার দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে অস্ত্রের আকার ভেদে ১০০, ১৫০, ২০০ টাকা। বিক্রি কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব যে বেশি তা নয়, কিন্তু খারাপও না। বেশির ভাগ লোকের কাছেই এসব অস্ত্রপাতি থাকে। তাঁরা বেশির ভাগ ধার করে কাজ চালাবেন। ছোটখাটো চাকু খুঁজে না পেলে এসে কিনে নিয়ে যাবেন। যাঁদের নেই, তাঁরা কিনছেন।

ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোরবানির মাংস কাটা হবে গাছের গুঁড়ির ওপর রেখে। ইংরেজিতে চপিং বোর্ড আর বাংলায় এগুলোকে খাটিয়া বলা হয়। গ্রামে এসব গাছের গুঁড়ি সাধারণত কিনতে হয় না। কিন্তু শহর এলাকায় নানা দামে এসব বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকান ও রাস্তার মোড়ে। মৌসুমি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অন্য ব্যবসায়ীরাও পাইকারি দরে কিনে এসব টুকরা টুকরা গাছের গুঁড়ি বিক্রি করছেন। দাম পড়ছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। শ্যামলীতে গাছের গুঁড়ি ও চাটাই নিয়ে বিক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন মাসুম নামের এক তরুণ। জানালেন, তাঁর চাটাই বিক্রি হবে প্রতিটি ২৫০ টাকায়। ঈদে কিছু বাড়তি রোজগারের আশায় পাইকারি রেটে তিনি এসব কিনে এনে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, এগুলো চালু আইটেম। ঈদের দিন এক বেলার জন্য এই জিনিস সবাই কিনবেনই।

তেঁতুলগাছের গুঁড়ি অপেক্ষাকৃত ভালো হয় বলে জানান মাসুম।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন