বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০০৩ সালে ট্রাভেল এজেন্সির চাকরিসূত্রে সৌদি আরবে যান হেদায়েতুল। সেখানে নিজের ব্যবসাও ছিল। ২০০৮ সালে সৌদি আরবে এক সড়ক দুর্ঘটনা এলোমেলো করে দেয় হেদায়েতুলের জীবন। দুর্ঘটনায় প্রাণে রক্ষা পেলেও মেরুদণ্ডে আঘাতের কারণে চিরতরে হারিয়ে ফেলেন হাঁটার ক্ষমতা। হেদায়েতুলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয় হুইলচেয়ার। তবে থেমে যাননি তিনি।

default-image

সৌদি আরবে ২২ দিন কোমায় থাকার পর হেদায়েতুলকে দেশে ফিরিয়ে আনেন পরিবারের সদস্যরা। ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র—সিআরপিতে ভর্তি করার পর চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় থাকেন বহুদিন। সিআরপিতে তাঁর ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন লাকী আক্তার। ২০১০ সালে হেদায়েতুল লাকী আক্তারকে বিয়ে করেন। স্ত্রী সিআরপিতে ফিজিওথেরাপিস্টের দায়িত্বপালন করছেন। এখন ১৭ মাস বয়সী ছেলে সায়ান আজিজের বাবা ও মা তাঁরা।

হাঁটতে না পারলেও শারীরিকভাবে একটু সুস্থ হওয়ার পর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কিছু একটা করতে চান হেদায়েতুল। কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মা ও শিশুর প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে পড়াশোনা (শর্ট গ্র্যাজুয়েশন) করেন। পরে হোমিওপ্যাথি বিষয়েও একটি ডিগ্রি নেন। অন্যদিকে সিআরপিতে থাকার সময়ই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের বিষয়টি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন। প্রতিবন্ধী মেধাবী তরুণদের স্বনির্ভর করার জন্য একীভূত প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে কম্পিউটারসহ কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেন তিনি। ডিডিএফ ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টিম-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ডিডিএফ হুইলচেয়ার ক্রিকেট টিম বাংলাদেশ এবং ডিডিএফ শারীরিক প্রতিবন্ধী ফুটবল দল।

২০১৭ সালে হেদায়েতুলের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক হুইলচেয়ার ক্রিকেট সিরিজে ডিডিএফ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল ভারতের দিল্লিতে ভারত হুইলচেয়ার ক্রিকেট টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অর্জন করে। ২০১৮ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট সিরিজে রানার্সআপ এবং ২০১৯ সালে কলকাতায় ট্রাই নেশন হুইলচেয়ার ক্রিকেট সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়। চলতি বছরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু চার বিভাগীয় হুইলচেয়ার ক্রিকেট সিরিজ এবং শহীদ শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকীতে শেখ রাসেল হুইলচেয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন তিনি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী প্যারা ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেন।

হেদায়েতুলের উদ্যোগে বিডিঅ্যানিমেল হেলথ নামক পশুখাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে আটজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। করোনায় তিনি ও তাঁর ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে হেদায়েতুল ‘সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নেন।

এসএ টিভির নির্বাহী পরিচালক রাশেদ কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে, বিজয়ের ৫০ বছরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যই উদ্যোগটি নেওয়া হয়। হেদায়েতুল আজিজকে এ কাজ করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। তাঁর পদের নাম হচ্ছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট। মাসে চারবার সকালের বুলেটিনে খবর পড়বেন হেদায়েতুল। দর্শকেরা তাঁকে তাঁর হুইলচেয়ার সহই দেখতে পাবেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন