বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে বাসভাড়ায় এই নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। সরকারনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। অধিকাংশ বাসে সরকারনির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ থেকে ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কেউ কম ভাড়া দিতে চাইলে চালক ও তাঁর সহকারীর দুর্ব্যবহারের শিকার হন।

বাসে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত ১০ নভেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে। প্রায় এক মাসের অভিযানে হাজারখানেক বাসকে জরিমানা করা হয়। অর্ধশতাধিক বাসকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। যেসব কোম্পানির বাসকে একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছে, তারপরও শোধরায়নি, সেসব বাসের রুট পারমিট বাতিলের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিকে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ। এই উদ্যোগেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি।

বাসমালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, যারা বেশি ভাড়া নিচ্ছে তাদের রুট পারমিট বাতিলের আগে সতর্কীকরণ চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর, মিরপুর সড়কের টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, ফার্মগেট ও শাহবাগ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী বাসে কত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তা দেখা হয় ১৭ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং গত বুধবার। দেখা যায়, অধিকাংশ বাসেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বিআরটিসির বাস ছাড়া প্রায় সব বাসেই সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা।

সরকার বহুবার আশ্বাস দিলেও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি। নৈরাজ্য বন্ধে ব্যর্থতার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মহাসচিব, যাত্রীকল্যাণ সমিতি

দিশারি পরিবহনের একটি বাসে উঠে দেখা যায়, ভাড়ার তালিকা টাঙানো। তাতে টেকনিক্যাল থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত ভাড়া লেখা ১৩ টাকা। নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। বাসটির চালকের সহকারী মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিরুপায়। মালিকেরা যা ভাড়া ঠিক করছে, সেটাই তো নিতে হবে।’

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ৭ নভেম্বর বাসভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ায়। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি গত ১০ নভেম্বর জানায়, ঢাকায় তিন দিনের মধ্যে সিটিং ও গেটলক সার্ভিস বন্ধ হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বন্ধ হয়নি। ‘সিটিং সার্ভিসে’র নামে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন থেকে কারওয়ান বাজার হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত সরকারনির্ধারিত ভাড়া ২২ টাকার জায়গায় সব বাসে নেওয়া হয় ৩০ টাকা। কল্যাণপুর থেকে মগবাজারের ভাড়া ১৪ টাকা, লাভলী ও লাব্বাইক পরিবহনে নেওয়া হয় ২৫ টাকা।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, যারা দুষ্ট, তারা কথা শোনে না। তারা এখনো অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। তবে অভিযানের পর আগের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অনেকটা কমেছে।

রাজধানীতে একই গন্তব্যে চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবহনের বাসের ভাড়ায়ও তারতম্য রয়েছে। শ্যামলী থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সরকারনির্ধারিত ভাড়া ১১ টাকা। এই পথে চলাচলকারী বসুমতী পরিবহনে ভাড়া নেওয়া হয় ২৫, তানজিল পরিবহনে ২০ টাকা এবং লাব্বাইক, লাভলী ও গাবতলী মিনিবাস মালিক সমিতির (৮ নম্বর লোকাল) বাসে ১৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার বহুবার আশ্বাস দিলেও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি। নৈরাজ্য বন্ধে ব্যর্থতার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন