উন্নয়ন বাজেটে এমন বৈষম্য না করার প্রতি জোর দেন আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নগরায়ণে ঢাকাকেন্দ্রিকতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্যদিকে অন্যান্য বিভাগীয় শহরসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকার নগরায়ণ হচ্ছে অগোছালো ও অপরিকল্পিতভাবে, যা আমাদের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণকে বেগবান করতে আমাদের নগর এলাকাগুলোর টেকসই নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আইপিডির উপদেষ্টা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, পৃথিবী সর্বোচ্চ ৯০০ থেকে ১০০০ কোটি মানুষকে ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। গত ১১ বছরে ১০০ কোটি মানুষ বেড়ে ১৫ নভেম্বর বিশ্বের মোট জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৮০০ কোটি। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার প্রায় কাছাকাছি জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজন অনুসারে সেবা দিতে পরিকল্পিত নগরায়ণের প্রতি জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা—মূলত এই তিন কারণে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসে। তিনি ঢাকার বাইরের অন্য শহরগুলোয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নত নাগরিক সেবা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। যাতে ঢাকাকেন্দ্রিক মানুষের চাপ কমে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ এখন দেশের ৫টি নগরে বাস করে। আর এই নগরে বাসকারী জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশই বাস করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা শহরে। এমন অবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই কোটি মানুষ যদি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা শহরে চাপ বাড়ে ও শহরের বাসযোগ্যতা কমে। তাঁর মতে, সারা দেশে সুষম বিনিয়োগের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকরণ করা সম্ভব।

বিকেন্দ্রীকরণ–সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরির প্রতি জোর দেন আইপিডির পরিচালক চৌধুরী মো. জাবের সাদেক। তিনি বলেন, বিকেন্দ্রীকরণ এক দিনে হবে না, ধাপে ধাপে করতে হবে। তাই এ–সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে। যাতে উল্লেখ থাকবে কোন প্রক্রিয়ায়, কী হারে বিকেন্দ্রীকরণ হবে।

অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিক সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় বলে অনুষ্ঠানে জানান সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অন্য শহরে অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় চারটি শহরকেন্দ্রিক। তিনি তুলনামূলকভাবে ছোট ও মাঝারি আকারের শহরগুলোয় অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ার প্রতি জোর দেন।

নগর সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিডির পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, শহরের সুবিধা গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু গ্রামেও কিছু সুবিধা রয়েছে; যার মধ্যে আছে খেলার মাঠ, মুক্ত আলো-বাতাস, সবুজ মাঠ—গ্রামের এসব সুবিধাও শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে। শহরের সুবিধা যখন গ্রামে যাবে এবং গ্রামের সুবিধা যখন শহরে পাওয়া যাবে তখনই ভারসাম্যপূর্ণ ও সুষম উন্নয়ন হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরহাদুর রেজা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, উন্নয়ন গবেষক রেদওয়ানুর রহমান প্রমুখ।